কিভাবে টিকটক ভিডিও ভাইরাল করবো | টিকটক ভিডিও ভাইরাল করার উপায় -Viral TikTok Videos )

প্রিয় বন্ধুরা আজ আপনাদের মাঝে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব, সে বিষয়টি হচ্ছে, টিকটক ভিডিও ভাইরাল বা কিভাবে আপনি টিকটক ভিডিও ভাইরাল করবেন (How To Viral TikTok Videos) ? আজ আপনাদের মাঝে টিকটক ভিডিও ভাইরাল করার সেরা কিছু টিপস আপনাদের মাঝে শেয়ার করব।

tiktok video viral

কিভাবে টিকটক ভিডিও ভাইরাল করবো আপনি যদি এই বিষয়ে জানার আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে আজকের আর্টিকেল আপনাকে একদম শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে পড়তে হবে, তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন কিভাবে টিকটক ভিডিও ভাইরাল করতে হয়।

চলুন, আর দেরি না করে শুরু করা যাক আজকের মূল বিষয়।

বর্তমানে এখন অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোর তুলনায় টিকটক এর অর্গানিক রিচ পাওয়াটা একটা সৌভাগ্য ব্যাপার। এমনকি, এখন প্রায় ৫৫% সেরা ব্র্যান্ডের টিকটক এ প্রেসেন্স নেই। তাই, এই সুযোগে আপনি আপনার নিজের ব্র্যান্ডের প্রচার অনেক ভালোভাবে করতে পারবেন।

এখন আপনি যদি জানতে চান TikTok-এ কিভাবে অর্গানিক ওয়েভ তৈরী করা যায় ও কীভাবে টিক টক এ ভাইরাল হওয়া যায়।

তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ আপনার জন্যে। কারণ, এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করতে চলেছি, আমরা কিভাবে tiktok ভিডিও ভাইরাল করবো ? এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে।

বন্ধুরা, প্রথমে আমরা জেনে নিই, tiktok অ্যালগরিদমের সাথে কিভাবে কাজ করা যেতে পারে, বিশেষ করে আপনার ভিডিও ভাইরাল হয়।

TikTok অ্যালগরিদমের সাথে কীভাবে কাজ করবেন ?

এখন বর্তমান সময়ে আপনি যদি কেবলমাত্র লাইক, শেয়ার ও ফলোয়ার সংখ্যার দিকে সময় বা নজর দিয়ে থাকেন, তাহলে আমি বলব আপনি ভুল তথ্যের প্রতি সময় বা নজর দিচ্ছেন।

এখানে Tiktok অ্যালগরিদম বোঝা আপনার জন্য অত্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

টিকটক এর অ্যালগরিদম অনেকটাই ফর ইউ পেজ (FYP)-এর উপর নির্ভর করে করে থাকে।

এক্ষেত্রে, আপনার যে ডেটার প্রতি ভালোভাবে নজর দেওয়া উচিত, তা হল আপনার টিকটক অ্যাভারেজ ওয়াচ টাইম।

আপনি যে টিকটক ভিডিও তৈরি করছেন তা আপনার TikTok ভিডিওর দৈর্ঘ্য ও অ্যাভারেজ ওয়াচ টাইম নির্ধারণ করে যে, টিকটক অ্যালগরিদম আপনার টিক টক ভিডিওটাকে কতটা প্রচার করতে সাহায্য করবে।

যেমন আমরা ধরে থাকি যে, অডিয়েন্স 2 সেকেন্ডের জন্য আপনার টিক টক ভিডিও দেখে, অ্যালগরিদম আপনার টিক টক ভিডিওটা মাত্র কয়েক জনকেই দেখাবে।

যদি আপনার TikTok ভিডিও অডিয়েন্সরা 4 সেকেন্ডের জন্য দেখে, তাহলে সেই টিকটক ভিডিও আবার অনেকটা সংখ্যক লোককে Tiktok দেখাতে পারে।

আপনার টিক টক ভিডিওর দৈর্ঘ্যের তুলনায় আপনার অ্যাভারেজ ওয়াচ টাইমের উপর নির্ভর করে যে, কতজন টিকটক ব্যবহারকারীদের আপনার টিক টক ভিডিও দেখানো হবে।

আপনার টিকটক ভিডিও অ্যাভারেজ ওয়াচ টাইম যত বেশি হবে, আপনার সেই ভিডিও টিকটক-এ তত টাই বেশি ভাইরাল হবে।

ফর ইউ পেজে ফীচার হলে, আপনার টিক টক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনাও আরও অনেক বেশি বেড়ে যায়।

এই পেজে ফিচার্ড হওয়ার জন্যে আপনার টিকটক ভিডিওর অ্যাভারেজ ওয়াচ টাইম, কমপ্লিশন রেট ও আপনি যে টিকটক ভিডিওতে ধরণের কনটেন্ট দিচ্ছেন- সেগুলো দেখে নেওয়া হয় ৷

এই সমস্ত কারণের উপর আপনার টিকটক ভিডিও গঠন কিভাবে হবে, তা নির্ভর করে।

কিভাবে টিকটক ভিডিও ভাইরাল করবো ?

এখন আমি TikTok ভিডিও ভাইরাল করার 19টি সেরা উপায় গুলো এক এক করে আপনাদের জানতে চলেছি।

১। চমকের সাথে টিকটক ভিডিও শুরু করুন

টিকটক হল একটা দ্রুতগতির অ্যাপস বা সফটওয়্যার। এখানে আপনার টিক টক ভিডিওটা সোয়াইপ করে অন্য ভিডিওতে যাওয়ার আগে আপনাকে দ্রুত অডিয়েন্সদের মনোযোগ আকর্ষণীয় করতে হয়।

শেষ অবধি আপনার ভিডিওর কোন অ্যাকশন না থাকলে, বেশিরভাগ অডিয়েন্সই ভিডিও স্কিপ করে যায়। প্রথম দিকে আপনাকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভিডিওর টোন ও বিষয় ভালোভাবে সেট করে নিতে হবে, যাতে অডিয়েন্সরা বুঝতে পারে যে, আপনার ভিডিওতে তারা কী দেখতে চলেছে।

২। ভিডিওর দৈর্ঘ্য ছোট রাখুন

যতক্ষণ না আপনি কোনো লম্বা গল্প বলছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এক মিনিটের বেশি সময় লম্বা কোনো ভিডিও আপনি বানাবেন না।

এখানে সব সময় আপনার ভিডিওর ক্লিপগুলো ছোট ছোট রাখার চেষ্টা করবেন।

টিক টক ভিডিওর দৈর্ঘ্যের তুলনায় আপনার অ্যাভারেজ ওয়াচ টাইমের উপর নির্ভর করে আপনার টিকটক ভিডিওর কন্টেন্টের গুণমান মূল্যায়ন করে থাকে।

আপনার টিক টক ভিডিওতে এমন অডিয়েন্সই বেশি আসবে যারা 1 মিনিট-দৈর্ঘ্যের ভিডিও 45 সেকেন্ড দেখার তুলনায় 15 সেকেন্ডের ভিডিও 10 সেকেন্ড অবধি দেখতে পছন্দ করবে।

৩। নিজের অডিও ব্যবহার করুন

ফোন ও সফটওয়্যারগুলো আমাদের বলা কথা শোনার ও সেই অডিওর উপর video করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যেমন আমাদের বিজ্ঞাপন দেখানো ক্ষমতা আছে।

টিক টক আপনার কনটেন্ট সঠিক অডিয়েন্সদের কাছে ভালোভাবে দেখানোর জন্যে আপনার video টা কী তা জানতে আপনার দেওয়া সমস্ত টুল ব্যবহার করে থাকে।

আপনি আপনার টিকটক ভিডিওর ক্যাপশন বা হ্যাশট্যাগগুলোর সাহায্যে এই কাজ ভালোভাবে করতে পারবেন।

তবে, আপনার টিকটক ভিডিওতে ভয়েসওভার ব্যবহার করে আপনি আরও সুন্দর স্পস্টভাবে বেশি কীওয়ার্ড ও ইনফরমেশন দিতে পারেন, যাতে tiktok আপনার video গুলো সঠিক অডিয়েন্সদের দেখাতে পারে।

৪। ট্রেন্ডিং গান বা সাউন্ড ব্যবহার করুন

আপনি টিকটক ভিডিওর ভয়েসওভার দিন বা না দিন, আপনার টিকটক ভিডিওগুলোতে ট্রেন্ডিং মিউজিক যুক্ত করাটা একান্তই জরুরি। আপনি অবশ্যই আপনার টিকটক ভিডিওতে নিজের পছন্দের গানগুলো বেছে নিতে পারেন।

তবে, টিকটক হল একটা সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম। এখানে মানুষেরা টিকটক ভিডিও গুলো ট্রেন্ডগুলো ভালো মতোই দেখে।

তাই, আপনি যদি বর্তমানের টিকটক ভিডিওতে ট্রেন্ডিং গানগুলো ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার টিকটক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট বেড়ে যায়।

সর্বদা, আপনার টিকটক ভিডিওর ভয়েসওভারের সাথে ব্যাকগ্রাউন্ডে একটা শান্ত গানের লেয়ার রাখার চেষ্টা করবেন।

৫। গল্প বলুন

আপনার টিকটকে নাচের ভিডিও ভাইরাল হলেও, আপনার আরো টিকটকের অনন্য গল্পগুলোর ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি থাকে।

চলুন, এইবার সত্যিটা জানা যাক যে, আপনি যদি আপনার টিকটক ভিডিওতে অসামান্য প্রতিভাবান কিংবা হাস্যকরভাবে খারাপ ড্যান্সার না হন, তাহলে আপনার টিকটকের নাচের ভিডিওগুলো এখানে ভাইরাল হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকেনা।

টিকটক ভিডিওতে আমাদের মধ্যে যারা নাচ-গান সম্পর্কে ভালো দক্ষ নন, তারা এমন কোন কোনো আকর্ষক গল্প বলার মাধ্যমেও ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

টিকটক ভিডিওতে যেকোনো গল্পই বলা যেতে পারে। যেমন আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা কিংবা কোনো নীতিকথা ও আরও অন্যান্য বিষয়ে গল্প।

৬। পছন্দের জিনিস, এডভাইস ও টিপস শেয়ার করুন

অনেক মানুষ আছে যারা টিকটক এ নানান জিনিস শেখাতে পছন্দ করে। তাই, আপনার যদি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর দক্ষতা থাকে,

তাহলে আপনি সেই দক্ষতার সম্পর্কে টিকটক ভিডিওতে আরও জানাতে তথ্যমূলক ভিডিও তৈরি করতে পারেন। কুইক বুলেট পয়েন্ট টিক টক ভিডিওগুলো এক্ষেত্রে দুর্দান্ত কাজ করে।

স্ক্রিনের উপরে টেক্সট ব্যবহারকারীদের মিনি-টেক্সটের মাধ্যমে গাইড করা হয়।

একইভাবে, মানুষেরা টিক টক এ কেনাকাটা করতেও পছন্দ করে থাকে, তাই আপনি যদি আপনার টিকটক ভিডিওতে প্রিয় প্রোডাক্টগুলো শেয়ার করাও ট্র্যাকশন (এবং মনিটাইজেশান) অর্জনের একটা আশ্চর্যজনক ভাবে সহজ উপায় হিসেবে কাজ করে থাকে।

৭। প্রভাবশালী কল-টু-অ্যাকশন রাখুন

কল-টু-অ্যাকশন সম্ভবত হল সবথেকে ইনপরটেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি। এটা কোনো টিক টক ভিডিওকে ভাইরাল করানোর পাশাপাশি আপনাকে আপনার ফলোয়ার বাড়াতেও আরো বেশি সাহায্য করে।

যদি, আপনি কেবলমাত্র 3000 ফলোয়ার পান, তাহলে কোনো ভিডিওতে 6 মিলিয়ন ভিউ নিয়ে কি লাভ ?

প্রথমত, যখন টিক টক অনেক লোককে কোনো টিক টক ভিডিওতে বেশি করে লাইক, আবার কমেন্ট ও ফলো করতে দেখে,

তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই টিক টক ভিডিওটাকে বেশি সংখ্যক লোকের কাছে তারা পাঠানোর চেষ্টা করে।

এই কারণে, আপনার টিকটক ভিডিওর ক্যাপশনে কিংবা আপনার ভিডিওর শেষে “Like for next part  “, “follow for more” বা “what’s your reaction?”,

এর মতো কোনো কল-টু-অ্যাকশন থাকাটা বেশি বেশি জরুরি। এর জন্য আপনার অবশ্যই কোনো বাধ্যতামূলক টিক টক ভিডিও থাকতে হবে।

কিন্তু, টিকটক ভিডিওতে কোনো প্রভাবশালী CTA যোগ করলে 3000 নতুন ফলোয়ারদের 3 মিলিয়ন ভিউ ও 5000 নতুন ফলোয়ারদের 10 মিলিয়ন ভিউয়ের মধ্যে পার্থক্য হতে পারে ৷

আপনার CTA কমপক্ষে কয়েক সেকেন্ড ভিডিও দীর্ঘ হওয়াটা আবশ্যিক, যাতে পরবর্তী টিক টক ভিডিওতে যাওয়ার আগে লোকেরা আপনাকে তারা ফলো করার সময় পায়।

৮। মানুষদের রান্ডম কমেন্টের সুযোগ দিন

এখনো বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে মানুষেরা ভিডিওতে এলোমেলো জিনিসগুলোর উপর বেশি বেশি কমেন্ট করতে পছন্দ করে।

ধরণ, আপনি ওয়াটার ফিল্টার পাল্টানোর ভিডিওর টিউটোরিয়াল দিচ্ছেন, এইবার আপনি আপনার টিকটক ভিডিওর কথার মাঝখানে কোনো ভালো চকলেট কেকের কথা তুললেন।

এখনো বর্তমান সময়ে এ ধরনের কথা মানুষজন এরকম অফবিট কথা শুনতে বেশ পছন্দ করে। আর, তারা সামান্য বিবরণ দেখতে বেশি পছন্দ করে, যেগুলো টিকটক ভিডিওর মূল ফোকাস নয়, আর সেগুলোতেই বেশি বেশি তারা কমেন্ট করে থাকে।

আর, আপনার টিকটক ভিডিওতে আপনি যত বেশি কমেন্ট পাবেন, তত বেশি আপনার টিকটক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে থাকে।

সুতরাং, আপনি আপনার টিকটক ভিডিওতে কমেন্ট করার জন্য লোকেদের যত বেশি রান্ডম ডিটেইলস দেবেন, আপনি তত বেশি কমেন্ট আশা করতে পারবেন।

এর, একটা ভালো সহজ উপায় হল, আপনি আপনার টিকটক ভিডিওতে অদ্ভুত কিংবা মজার কোনো তথ্য বলতে পারেন, যেগুলো সম্পর্কে আপনার অডিয়েন্স আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে পারে।

৯। কিছু প্রশ্ন অধরাই রাখুন

কমেন্ট পাওয়ার জন্য আপনার টিকটক ভিডিওতে এই ধাপটা ফলো করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটা আপনাকে টিক টক -এ ভাইরাল হতে বেশি বেশি সাহায্য করবে।

যদি, আপনি কোনো টিকটক ভিডিও পোস্ট করেন ও আপনি কোনো সুস্পষ্ট প্রশ্ন তৈরী করতে পারেন, যা অডিয়েন্স দের মনে তৈরী হবেই, তা কখনোই আপনার টিকটক ভিডিওতে ব্যাখ্যা করবেন না।

এটা আপনাকে অনেকগুলো কমেন্ট পেতে সাহায্য করবে ও টিকটক ভিডিওটাকে ভালোভাবে পারফর্ম করতেও সাহায্য করবে।

১০। বিতর্কমূলক কিছু করুন

আপনার টিকটক ভিডিওতে কমেন্ট ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা যেমন বাড়ায়, তেমনই বিতর্কিত টিক টক ভিডিও-ও কিন্তু বেশ ভাইরাল হয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।

অনেক লোকেরা সত্যই ইন্টারনেটের বস্তুর পিছনে সময় খরচ করতে পছন্দ করে থাকে।

এখানে আপনাকে জেনে শুনে কোনো রকম ভুল করতে হবে না, আপনাকে এমন কোনও বিষয় নিয়ে ভিডিওতে মন্তব্য করতে হবে, যা নিয়ে নানান মানুষ নানা মতামত আপনার কমেন্টে পোষণ করে।

যেমন- ধরুন রান্নায় কে ভালো বাঙাল বা ঘটী ? কিংবা, স্বাদে কোন মাছ সেরা ইলিশ না চিংড়ি ? আক্ষরিক অর্থে এই ছোট-ছোট বোকা-বোকা জিনিসও আপনার অডিয়েন্সদের তর্কে জড়িয়ে তাদের কাছ থেকে মতামত কমেন্ট করাতে উসকে দিতে পারে।

যা আপনার টিকটক ভিডিওকে ভাইরাল করে দিতে প্রস্তুত।

১১। কিছু তুফানী করুন

যদি আপনার টিকটক ভিডিও ইসিলি রিলেটেবল, অনুপ্রেরণামূলক, কিংবা ঘৃণ্য এই তিনটি ধরণের মধ্যে ভিডিও একটা হয়- তাহলে আপনি অনিবার্যভাবে এখানে আপনার অডিয়েন্সদের কাছ থেকে কমেন্ট পেয়ে যাবেন।

১২। ভিডিওতে এমন অংশ রাখুন, যা পুনরায় দেখার প্রয়োজন হবে

টিকটক ভিডিওতে এটা শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও, এমন ধরণের টিক টক ভিডিও থাকার সুবিধা হল এখানে কিছু অংশ প্রথম দেখার সময় অনেকেই একেবারে পড়তে, দেখতে কিংবা বুঝতে অনেকেই পারে না।

ধরুন, আপনার টিকটক ভিডিওতে টেক্সট রয়েছে যেটা দ্রুত চলে যায়, আর সেটা পড়ার জন্যে আপনার টিকটক ভিডিওর অডিয়েন্স সম্ভবত ভিডিওটা আবার পুনরায় দেখে কিংবা ভিডিওটা পস করে থাকে।

যখন তারা আপনার টিক টক ভিডিও পস করে বা আবার দেখে থাকে, তখন তারা আপনার টিকটক ভিডিওর পিছনে অনেকটা সময় দিয়ে থাকে।

যে কারণে, টিক টক এর অ্যালগরিদম বোঝে যে, আপনার টিকটক ভিডিওটা অনেক বেশি সংখ্যক লোককে দেখানো যেতে পারে।

১৩। ওপেনিং ভিডিও ফ্রেমে ও টেক্সট রাখুন

প্রথম স্লাইডে টেক্সট দিয়ে আপনার টিক টক ভিডিও শুরু করলে, FYP-এ অডিয়েন্স সম্ভবত এটা পড়তে কয়েক সেকেন্ড সময় ব্যয় করবে, আর স্বাভাবিক ভাবেই টেক্সটবিহীন টিক টক ভিডিওর থেকে টেক্সট ভিডিওতে আরও বেশি সময় থাকে।

অ্যালগরিদমে এটা শুধুমাত্র অ্যাভারেজ ওয়াচ টাইম-এর জন্যই একদম ভালো নয়, বরং এটা আপনাকে টিকটক ভিডিওর এনগেজমেন্টও এনে দেয়।

১৪। #FYP, #foryou, বা অন্যান্য জেনেরিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করবেন না

টিকটক ভিডিওতে যে হ্যাশট্যাগগুলো যে সর্বদা কাজে লাগে, তা নয়।

তবে, #FYP, #foryou কিংবা এই ধরণের জেনেরিক হ্যাশট্যাগগুলো টিকটক ভিডিওতে কোনো কাজেই লাগে না।

আপনি নিশ ট্যাগ ব্যবহার করতেও পারেন বা নাও করতে পারেন সেটা আপনার বিষয়।

আপনার যদি কোনো সুপার নিশ টিকটক ভিডিও থাকে, তাহলে নিশ হ্যাশট্যাগগুলো মাঝেমাঝে টিকটককে আপনার ভিডিওটাকে সঠিক অডিয়েন্সদের কাছে আরো বেশি পরিবেশন করতেও পারে।

তবে, টিকটক প্ল্যাটফর্ম জুড়ে আপনার ভিডিওর পোস্টে নানান লোকের কাছে আবেদন করার মতো কনটেন্ট থাকে, তাহলে আপনাকে হ্যাশট্যাগ বাদ দিয়ে অ্যালগরিদমকেই কাজ করতে দিন।

১৫। কমেন্টের রিপ্লাই করুন

আপনার টিকটক ভিডিওতে কোনো কমেন্ট পড়তে থাকলে আপনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

এই ব্যাপারটা আরও বেশি বেশি কার্যকরী হয়ে থাকে, যদি আপনি আপনার টিক টক ভিডিওতে অডিয়েন্সদের কমেন্টের সাথে যুক্ত হয়ে তাদের কমেন্টের আপনি সরাসরি উত্তর দিতে পারেন।

তবে, আপনার যদি টিকটক-এ ভাইরাল হওয়া কোনো ভিডিও থাকে ও আপনি কমেন্টের উত্তর দিচ্ছেন, তাহলে সেটা আপনি সাথে-সাথে না করে, সময় নিয়ে একটু ধীরে ধীরে-সুস্থে উত্তর দিন, নাহলে আপনি ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

১৬। ঘনঘন পোস্ট করুন

আসলে টিকটক এ ভিডিও ভাইরাল হওয়া হল এক ধরণের সংখ্যার খেলা।

আপনি যত ঘন ঘন ভিডিও পাবলিশ করবেন, তত আপনার টিকটক ভিডিওর ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

টিক টক ভিডিওর মানের দিকে বেশি মাথা না ঘামিয়ে আপনার ধারাবাহিক পোস্টের দিকে ভালোভাবে নজর দিন।

তবে, আপনার টিকটক ভিডিওগুলো সম্ভবত খুব বেশি ভালো না হলেও, এর মধ্যে থেকে যে কোনো একটা বা দুটো ভিডিওর টিকটক-এ ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকতেই পারে।

১৭। একটা নিশেই টিকে থাকবেন না

এখনো বর্তমান সময়ে টিকটক এ, যেকোনো বিষয় নিয়েই ভাইরাল হওয়া যায়।

তবে, প্রথম দিকে tiktok খুললে, আপনাকে বিভিন্ন নিশ নিয়ে অভিজ্ঞতা আগে ভালোভাবে অর্জন করে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স ও আপনার দক্ষতা বুঝে নিতে হবে।

এক্ষেত্রে, আপনি যখন টিকটক শুরু করবেন, তখন আপনি বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট, বিভিন্ন ফর্ম্যাট ও বিষয় নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করুন।

যখন আপনি বুঝবেন যে, আপনার টিকটক ভিডিওতে অডিয়েন্সের কী দেখতে পছন্দ করে ও আপনি কী তৈরি করতে চান, তখন তা সেই অনুযায়ী বেশি করে ভিডিও বানাতে থাকুন।

এর পরেও, আপনি আরো নতুন নতুন ধরনের কন্টেন্ট দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

১৮। প্রোডাক্টের লিংক সাথে সা থে পোস্ট করবেন না

যদি আপনি আপনার টিকটক ভিডিওতে কোনো প্রোডাক্ট রিভিউ কিংবা অ্যাফিলিয়েট লিঙ্কগুলোর মাধ্যমে আপনার টিকটক ভিডিও মনিটাইজ করার চেষ্টা করেন, তাহলে টিকটক ভিডিওতে সরাসরি লিঙ্ক দেওয়াটা আপনি এড়িয়ে যান।

কারণ, লিঙ্কগুলো না দিলে সেই প্রোডাক্ট গুলো আপনি কোথা থেকে নিয়েছেন, তা জিজ্ঞাসা করবে বা লিঙ্কগুলোর আশাতে অনেক মানুষই আপনাকে তখন কমেন্ট করতে পারে।

যা টিকটক ভিডিও ট্র্যাকশন পেতে ও টিকটক এ ভাইরাল হতে যথেষ্ট সাহায্য করবে।

১৯। FYP-এ ভিডিও দেখার জন্য দিনে অন্তত ১৫-৩০ মিনিট ব্যয় করুন

শুধুমাত্র আপনার টিকটক ভিডিও পোস্ট করার জন্য টিকটক এ আসা প্রলুব্ধকর মনে হলেও, tiktok এ অন্যান্য কাজ করার আগে নিয়মিত ভাবে FYP-এ ভিডিও দেখাটা গুরুত্বপূর্ণ।

এটা আপনাকে আরো নতুন ধারণা পেতে ও বর্তমান সময়ে ট্রেন্ডগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আপনাকে বেশি সাহায্য করবে।

আর, শেষ অবধি যা আপনাকে সব থেকে সেরা টিকটক ভিডিও তৈরি করতে সাহায্য করবে।

শেষ কথা,,

আজকে এই আর্টিকেলে টিকটক ভিডিও কিভাবে ভাইরাল করবো ?  এই নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানে শেষ হল।

আজকের এই টিকটক ভিডিও ভাইরাল করার লেখাটি পছন্দ হলে অবশ্যই আপনি আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।

এছাড়া, আপনি যদি আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে সেটাও আপনারা আমাদেরকে নিচে কমেন্ট বক্স এ কমেন্ট করে অবশই জানিয়ে দিবেন। ধন্যবাদ

Leave a Comment