কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করা যায়

ইউটিউব থেকে আয় ২০২২: আমাদের ব্যক্তিগত মত থেকে অনলাইনে আয়ের যতগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও ভালো পরিমাণ মাধ্যম রয়েছে তার ভিতরে সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব । আপনিও ইউটিউব কে ব্যবহার করতে পারেন অনলাইনে আয়ের মাধ্যম হিসেবে। যদি আপনার অনলাইনে আয়ের প্রতি আগ্রহ থাকে।

ইউটিউব থেকে আয়

আপনি কি জানেন Vlad এবং Nikita নামক দুই ভাই তাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতি ভিডিওতে গড়ে $312,312 ডলার আয় করে থাকেন যা বাংলাদেশী টাকায় ২৬,২৩৪,২০৮ টাকা। Dude Perfect প্রতি ভিডিওতে গড়ে $301,262 ডলার আয় করেন। যা বাংলাদেশী টাকায় ২৫,৩০৬,০০৮ টাকা।

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় ২০২২

বর্তমানে Facebook এর মতো অন্য আরেকটি জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া হলো ইউটিউব। প্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষ এসব সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করছে প্রতি দিন, প্রতি ঘন্টায় এমনকি প্রতি মিনিটে!! এবং এই সংখ্যাটি ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ প্রতিদিন ৪০ মিনিট করে ভিডিও দেখে ইউটিউব এ। তার পাশাপাশি বাড়ছে এসব সোশাল মিডিয়ায় মানুষের আয়ের সুযোগ।

হ্যাঁ শুধু মাত্র ইউটিউব থেকেই আয় হাজার হাজার ডলার আয় করা সম্ভব। কিন্তু অনেকেই ইউটিউব চ্যানেল খুলেন কিন্তু কেন সবাই Vlad and Nikita অথবা Dude Perfect হতে পারে না। তার একমাত্র কারন হলো সবার এই বিশাল ইউটিউব জগৎ নিয়ে নেই যথেষ্ট ধারনা।

ইউটিউব থেকে আয় কত বড় একটি উৎস হতে পারে ওটা যারা বুঝতে পারে তারাই হতে পারে সফল। শুধু মাত্র ইউটিউব থেকে ইনকামের পিছনে ছুটলেই হয় না আপনার কন্টেট, চ্যানেল সব কিছুকে ইনকামের উপযোগী করতে হবে। তবেই আপনি পারবেন হাজার হাজার ডলার আয় করতে।

আজকের এই আর্টিকেলে আপনাকে শেখানো হবে ইউটিউব চ্যানেল খোলা থেকে শুরু করে ইউটিউব থেকে ইনকামের আগ পর্যন্ত যা যা করতে হবে। এবং সর্বশেষে রয়েছে এমন কিছু ট্রিকস যেগুলো আপনার ইউটিউব পথচলাকে করবে আরও সহজ থেকে সহজতর। সেজন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

ইউটিউব থেকে ইনকাম কি সবাই করতে পারবে? তার সোজা উত্তর হলো “না”। সবাই এই প্ল্যাটফর্মে আয় করতে পারবে না শুধুমাত্র Content Creators রাই পারবে অর্থাৎ যারা ভিডিও তৈরি করে। যারা ইউটিউব এ নানা বিষয় সম্পর্কিত ভিডিও বানায় তারাই Content Creator।

Content Creator হতে হলে আপনার Gmail একাউন্ট দিয়ে একটি Youtube Channel খুলতে হবে যেটি সম্পূর্ন বিনামূল্যে। তারপর আপনি চাইলেই আপনার হাতে থাকা স্মার্ট ফোন দিয়েই ভিডিও বানিয়ে আপলোড দিতে পারেন ইউটিউব এ। আপনাকে অবশ্যই এমন একটি বিষয়ে ভিডিও বানাতে হবে যেটি দেখতে মানুষ পছন্দ করে।

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলব?

ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হলে আপনার একটি জিমেইল একাউন্ট খুলতে হবে যেটিতে অবশ্যই আপনার সঠিক তথ্য দিয়ে খোলা সম্পূর্ন ভেরিফাইড জিমেইল একাউন্ট হতে হবে।

ইউটিউব এ গিয়ে উক্ত জিমেইল দিয়ে Sing in করতে হবে। তারপরে উপরের দিমে বাম কোনে আপনার একাউন্টের ছবি দেখা যাবে ওখানে ক্লিক করে Your channel লিখায় ক্লিক করে আপনার পছন্দের নাম দিয়ে খুলে ফেলুন ইউটিউব চ্যানেল।

Trick :- চ্যানেলের নাম সব সময় ছোট রাখার চেষ্টা করবেন এবং আপনি যে বিষয়ে ভিডিও বানাবেন সেই রিলেটেট নাম দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

কিভাবে প্রফেশনাল ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবেন?

হয়ে গেল ইউটিউব চ্যানেল এখন আপনাকে ভিডিও বানাতে হবে ভিডিও বানানোর ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন :-

১) ভিডিও বানানোর আগে আপনাকে একটি স্ক্রিপ্ট রেডি করতে হবে। স্ক্রিপ্ট হলো আপনি ভিডিওতে কি কি বলবেন কোন টপিকে বলবেন তা একটি কাগজে আগে নোট করা। এটি আপনার ভিডিওকে দিবে প্রোফেশনালিটি এবং আপনার ভিডিও হবে সুন্দর এবং গোছানো।

২) একবারেই পুরো ভিডিও না করে খন্ড খন্ড করে করুন ভিডিও। নতুনদের জন্য এটি বেশি কার্যকরি।

৩) ভিডিওতে ব্যবহার করুন কোমল এবং সুন্দর বেকগ্রাউন্ড মিউজিক। যেটি আপনার দশর্কের ভিডিও দেখার প্রতি আর্কষনকে আরো বাড়িয়ে তোলবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে কপিরাইট ফ্রি মিউজিক ব্যবহার করতে হবে।

বানানো হলো ভিডিও এখন ভিডিও এডিট এবং আপলোড করতে হবে।

আপনার জন্য: ইউটিউব এসইও: YouTube ভিডিও #1 এ নিয়ে আসুন

ইউটিউবে সফল হতে গেলে বা Youtube থেকে আয় পুরোটাই নির্ভর করে ইউটিউব ভিডিও কনটেন্ট এর উপর। আর কনটেন্ট নির্ভর করে ভিডিও কোয়ালিটি উপর। আর কোয়ালিটির অনেক বড় একটা অংশ নির্ভর করে ভিডিও এডিটিং এর উপর।

ইউটিউবে ভিডিও এডিটিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভিডিও ভিউস পাওয়ার ক্ষেত্রে। সেজন্য ভালো একজন ইউটিউবার হতে গেলে ভালো একজন ইউটিউব ভিডিও ইডিটর হওয়া করা গুরুত্বপূর্ণ।

১) এডিটের ক্ষেত্রে যেকোন এপ ইউজ করতে পারেন। প্রথমেই আপনার খন্ডায়িত ভিডিও ক্লিপ গুলোকে একত্রে করুন।

২) আপনার টপিক রিলেটেড একটি সুন্দর ইনট্রো থাকতে হবে ভিডিওতে। অনেক ফ্রি ওয়েবসাইট/মোবাইল এপ থেকে এই ইনট্রো বানাতে পারেন।

৩) যদি আপনি সঠিক এবং নিখুঁত ভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করতে পারেন তবেই করবেন আর না হলে কোন সাদা বা কালো কাপড়কে ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করুন। কারন সঠিক ভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করতে না পারলে আপনার ভিডিও প্রোফেশনালিটি এবং ভিউস দুটিই হারাবে।

১) আর্কষনীয় টাইটেল খুজে বের করতে হবে প্রথমেই যেটি অবশ্যই আপনার টপিক রিলেটেড হবে।

২) আর্কষনীয় থাম্বনেইল বানাতে হবে।

৩) আপনার টপিক রিলেটেড সঠিক ট্যাগ ইউজ করে আপলোড করুন আপনার ভিডিও।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল হলো, ভিডিও আপলোড হলো এখন আমাদের চ্যানেলকে সাজাতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেল অপটিমাইজ

১) আপনার চ্যানেলের নাম অনুযায়ী একটি লোগো বা প্রোফাইল পিকচার তৈরি করুন। তারপর সেটিকে আপলোড দিন আপনার চ্যানেলে

২) একটি সুন্দর ব্যানার বানান এবং সেটিকে ও আপলোড দিন

৩) চ্যানেলের এবাউট সেকশনে আপনার সম্পর্কে কিছু কথা লিখে আপনার ইমেইল /ফেইসবুক এসব দিন

৪) আপনার যেসব ভিডিও খুব ভালো হয়েছে সেগুলো হোম পেইজে রাখুন।

এভাবেই যাবতীয় সব কাজ করে আপনি খুলে ফেললেন একটি প্রোফেশনাল Youtube channel এবং হয়ে গেলেন একজন Content Creator। এবার আসা যাক ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার বেপারে।

ইউটিউব থেকে আয় আমরা ২ ভাগে ভাগ করতে পারি:

  • ১) গুগল এডস্নেস থেকে টাকা আয়।
  • ২) ইউটিউব মার্কেটিং করে আয়।

অন্যান্য দেশে ইউটিউবাররা গুগল এডসেন্স ব্যবহার করার পাশাপাশি অন্যান্য মাধ্যমে ইউটিউব দ্বারা অনলাইন আয় করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে বেশিরভাগ ইউটিউবরা গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে ইনকাম করে থাকে।

বাংলাদেশে ইউটিউব থেকে আয় এর ক্ষেত্রে গুগল অ্যাডসেন্স একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। আপনি যদি গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম করতে চান তাহলে আপনার গুগল এডসেন্স সম্বন্ধে ভালো ধারণা থাকা জরুরি।

Google Adsense কি?

এটি হলে Google এরই একটি Advertisement প্রতিষ্ঠান যেখানে নানা ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য/সার্ভিস এর বিজ্ঞাপন দেন এবং google adsence ঐসব বিজ্ঞাপন আমাদের ভিডিওতে দেখিয়ে আয় করে তার একটি শতাংশ Content creators দের দিয়ে থাকেন। এভাবেই Google Adsence দিয়ে ইউটিউব থেকে আয় করা যায়।

Adsence এর সাথে কাজ করতে হলে আমাদের প্রথমে Youtube partner program এ যুক্ত হতে হবে কিন্তু এখানে যুক্ত হতে হলে কিছু শর্ত মানতে হবে

চলুন দেখে নিই কি কি স্টেপ অনুসরণ করে Adsence এর সাথে কাজ করা যাবে।

STEP 1 :-

আপনার একটি নূন্যতম ১০০০ সাবসস্ক্রাইবার যুক্ত ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে। এবং চ্যানেলে কমপক্ষে ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম থাকতে হবে।

Step 2:-

তারপরে একটি গুগল এডসেন্স একাউন্ড খুলে আপনার চ্যানেলকে সংযুক্ত করতে হবে।

Step 3:-

ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হতে হবে।

তারপর আপনার চ্যানেল যদি সকল শর্ত মেনে থাকে তাহলে আপনার ভিডিওতে নানা বিজ্ঞাপন আসা শুরু হবে। এবং আপনার ইউটিউব আয় শুরু হবে।

আপনাকে অবশ্যই Youtube Policy সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে। এমন কিছু আপনার চ্যানেলে দিবেন না যা Youtube Policy’র বিরুদ্ধে যায়। এতে আপনার ইউটিউব থেকে ইনকামে প্রভাব পড়বে।

ইউটিউব থেকে টাকা তোলার উপায়

আপনার একাউন্টে ১০ ডলার হওয়ার পর গুগল আপনাকে ডাকযোগে একটি চিঠি পাঠাবে যেটি আপনাকে সংগ্রহ করে নিয়ে ঐ চিঠিতে থাকা গোপন পিন দিয়ে আপনার একাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে।

তারপরে আপনার Bank একাউন্ট যুক্ত করবেন Adsence এর সাথে। তারপরেই প্রতি মাসের ২১-২৫ তারিখের মধ্যে আপনি আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকা নিতে পারবেন। টাকা উত্তলনের জন্য ১০০ ডলার Adsence একাউন্টে থাকা বাধ্যতামূলক।

গুগল Adsence টাকা দেই CPM (cost per miles) এবং CPC (Cost per click) এর ভিত্তিতে।

আপনার ভিডিতে থাকা বিজ্ঞাপনটি যদি ১০০০ মানুষ দেখে তাহলে আপনি কি পরিমান করবেন তাই হলো CPM। মনে করুন আপনার CPM 2 ডালার তার মানে আপনার ভিডিওতে থাকা বিজ্ঞাপনটি ১০০০ জন দেখলে আপনার ইউটিউব আয় ২ ডলার হবে।

আপনার ভিডিওতে থাকা বিজ্ঞাপনটিতে ১ জন ক্লিক করলে কি পরিমান করবেন তাই CPC। যেমন :-মনে করুন আপনার CPC ১ ডলার তার মানে কোন একজন মানুষ যদি আপনার ভিডিও দেখার সময় বিজ্ঞাপনে ক্লিক করেন আপনি ১ ডলার আয় করবেন।

এই CPC এবং CPM যত বেশি হবে আপনার আয় তত বেশি হবে। CPC এবং CPM নির্ভর করে আপনার ভিডিওর টপিকের উপর। যেমন হেল্থ টেকনোলজি এসব বিষয় নিয়ে ভিডিও বানালে CPC এবং CPM অনেক বেশি পাওয়া যায়। এমন আরো অনেক বিষয়ই রয়েছে এমন হাই CPC এবং CPM’র তা জানার জন্য আপনাকে ভিডিও তৈরির পূর্বে অবশ্যই রিসার্চ করতে হবে।

CPC এবং CPM দেশভেদে ও ভিন্ন হয়। যেমন বাংলাদেশের CPC কম কিন্তু USA ‘র CPC অনেক বেশি। কিন্তু সঠিক টপিক নির্বাচন করতে পারলে বাংলাদেশে অনেক হাই CPC,CPM পাওয়া যায়।

ইউটিউব প্রতি ১০০০ ভিউতে কত টাকা দেয়?

যারা ইউটিউবে নতুন তারা এই প্রশ্নটিই বেশি করে থাকেন। ইউটিউব আসলে ভিউ তে কোন টাকা দেয়না। আপনার ভিডিও মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ হলেও কোন টাকা পাবেন না যদি আপনি ভিডিওতে কোনো এড না আসে। গুগল এডসেন্স মূলত ইউটিউব ভিডিওতে এড দেখানো বা এড এ ক্লিক করার মাধ্যমে কন্টেন্টে ক্রিয়েটরদের টাকা দিয়ে থাকে।

আর ইউটিউব প্রতি ১০০০ ভিউতে কত টাকা দিবে এর কোনো নির্দিষ্ট হিসাব নেই। ইউটিউব এর ইনকাম কম-বেশি নির্ভর করে ইউটিউব ভিডিও দেখার লোকেশন ও ভিডিও ক্যাটাগরি। যেমন বাংলাদেশের গুগোল অ্যাডসেন্সে সিপিসি আর আমেরিকার গুগল অ্যাডসেন্সের সিপিসিতে অনেক ব্যবধান।

ইউটিউব কত ভিউতে কত ডলার বা টাকা দেয় এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এই পোস্টটি দেখুন: ” ইউটিউব প্রতি ১০০০ ভিউতে কত টাকা দেয়? “

আগেই বলেছি ইউটিউব এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাহার প্রতিদিন তাই এটি হতে পারে মার্কেটিং করার সবচেয়ে উপযুক্ত একটি জায়গা। এজন্য মার্কেটিং করেও ইউটিউব থেকে অর্থ আয় করতে পারেন। চলুন জেনে আসা যাক কিভাবে।

আপনি চাইলে আপনার পণ্য বা সেবা আপনার দর্শকদের কাছে বিক্রি করতে পারেন। আপনি আপনার পণ্য বা সেবার ভালো মন্দ দিক গুলো দর্শকের কাছে ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ করে দর্শককে উক্ত সেবা / পণ্যটি কিনতে আগ্রহী করে তুলতে পারেন। যার ফলে আপনি খুব ভালো পরিমান অর্থ ইউটিউব হতে আয় করতে পারবেন।

বর্তমানে অনেক Content Creators’রাই এটি করছেন এবং খুব ভালো ইউটিউব থেকে আয় করছেন। আপনি চাইলে আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সে বিষয়ের উপর একটি কোর্স বানিয়ে বিক্রি করতে পারেন। চলুন দেখে আসি কিভাবে আপনার প্রোডাক্ট/সার্ভিস মার্কেটিং করবেন

Step 1 :-

আপনাকে আগে এমন একটা পণ্য নির্বাচন করতে হবে যেটায় আপনার দর্শকের আগ্রহ আছে। যেমন আপনি যদি টেকনোলজি নিয়ে ভিডিও বানান তাহলে আপনার দর্শক তারাই থাকবে যাদের টেকনোলজি নিয়ে আগ্রহ আছে।

এখন আপনি যদি তাদের হেল্থ রিপিটেড কোন পণ্য কিনতে বলেন আপনার সেলস খুবই কম আসবে এবং অনেক দর্শকই এটা বিরক্তিকর মনে করবে। তাই আপনার চ্যানেল টপিক অনুযায়ী পণ্য সিলেক্ট করুন

Step 2:-

আপনার পণ্য কোন সমস্যার সমাধান দিতে পারবে তা বের করুন। এবং ঐ সমস্যা নিয়ে একটি ভিডিও বানান এবং সমস্যার সমাধান হিসেবে আপনার পন্য সাজেস্ট করুন।

যেমন :- মনে করুন আমি হেল্থ রিলেটেড টপিক নিয়ে কাজ করি এবং আমার কাছে একটি প্রোডাক্ট আছে ডাব সেম্পু। এখন এই প্রোডাক্টটি চুল পড়া কমায় অর্থাৎ চুল পড়ার সমস্যার সমাধান এটি। তাই চুল পড়া নিয়ে একটি ভিডিও বানাব যেটায় আমি ডাব সেম্পু সাজেস্ট করব।

কিন্তু সমস্যার সমাধান হিসেবে যদি শুধুই নিজের পণ্য দেন অনেকেই বুঝে যাবে আপনার মার্কেটিং টেকনিক। তাই অনেক গুলো সমাধানই দিবেন যার মধ্যে একটি সমাধান হলো আপনার পণ্যটি। এবং ডেসক্রিপশনে আপনার পণ্যের লিংক দিবেন।

Step 3:-

আপনার পণ্যের লিংক কোথায় পাবেন?

আপনি একটা ওয়েব সাইট খুলবেন যেখানে আপনার পণ্যটি থাকবে এবং পণ্য সম্পর্কিত আরো কিছু লিখা থাকবে এবং পণ্য অডার করার একটি অপশন থাকবে।

এই ওয়েবসাইট তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো আপনি আপনার ভিডিওতে আপনার পণ্য সম্পর্কে বেশি কিছু বলতে পারবেন না কারন দর্শক বিরক্ত হবে তাই আপনি ওয়েবসাইটে লিখবেন।

যারা আপনার পণ্যের প্রতি আগ্রহী তারাই যাবে আপনার ওয়েবসাইটে এবং ওয়েবসাইটের পণ্যের বিবরণী তাকে পণ্য কিনতে আগ্রহী করবে।

Step 4:-

অর্ডার নেওয়ার সময় অবশ্যই আপনার কাসটমার থেকে ইমেল বা মোবাইল নাম্বার নিবেন। তার কারণ হলো যে অর্ডার করবে সে এমন একজন ব্যাক্তি যার চুল পরার সমস্যা আছে এবং তিনি সেম্পু রিলেটেড প্রোডাক্টের প্রতিও আগ্রোহী।

আপনি চাইলে অনেক ইমেইল কালেক্ট করে তা ঐ রিলেটেড পণ্যের কোম্পনির কাছে বিক্রি করতে পারবেন বা আপনি পরবর্তীতে এমন পণ্য বিক্রি করলে তা সম্পর্কে ঐসব ইমেইলে মার্কেটিং করতে পারবেন। একে বলে ইমেইল মার্কেটিং।

মনে করুন আপনার কোন পণ্য/সার্ভিস নেই তাহলে কি আপনি মার্কেটিং করতে পারবেন না? অবশ্যই পারবেন। আপনি অন্যের পণ্য মার্কেটিং করবেন এবং প্রতি সেলসের উপর কমিশন নিবেন।

এভাবে অন্যের পণ্যের মার্কেটিং করে প্রতি সেলসের উপর কমিশন নেওয়াকে এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। বর্তমানে এটি Content Creators দের খুবই জনপ্রিয় একটি ইউটিউব থেকে আয় এর মাধ্যম। অনেকে মনে করেন এটির মাধ্যমে আপনি ঘুমানো থাকা অবস্থায় ও ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারবেন। অনেকে আবার এটিকে Autopilot system ও বলে। চলুনন একটু ভালোভাবে বিষয়টি বুঝি।

মনে করুন আপনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস Daraz এর এ্যাফিলিয়েট মার্কেটার। তাহলে Daraz আপনাকে একটি লিংক দিবে যেটি হবে আপনার এ্যাফিলিয়েট লিংক। আপনার উক্ত লিংক থেকে কেউ কিছু কেনা কাটা করলে আপনি কমিশন পাবেন।

আপনি এই লিংকটি আপনার ভিডিও ডেসক্রিপশনে রেখে আপনার দর্শকদের ঐ লিংক থেকে কেনা কাটা করার জন্য উৎসাহিত করুন। এভাবেই আপনার আয় হবে।

এমন অনেক অনলাইন মার্কেট আছে যেমন আপনি ইন্টারনেশনাল কোন টপিক নিয়ে ভিডিও করলে Amazon এর এ্যাফিলিয়েটে যুক্ত হতে পারেন।

Amazon যেহেতু বাংলাদেশে নেই তাই বাংলাদেশি কোন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করলে Amazon এর লিংক দেওয়া যাবে না করন তখন আপনার দর্শক হবে শুধু বাংলদেশীরা। বাইরের দেশের খুব কমই হবে।

কিন্তু যদি আপনি ইংরেজিতে ভিডিও বানান তাহলে এটি হতে পারে আপনার জন্য অনেক সম্ভাবনাময় একটি পদ্ধতি কারন এমন কিছু মার্কেটপ্লেস আছে যার আপনাকে প্রতি সেলস এর অনেক হাই কমিশন দিবে।

যেমন : প্রতি সেলসে ৩০-৫০ ডলার। কিন্তু এসব মার্কেটপ্লেস গুলো প্রায়ই ইউরোপ কেন্দ্রীক। তাই যদি আপনার দর্শক ইউরোপ কেন্দ্রীক হয় তাহলে আপনি এসব হাই কমিশন রেট প্রোডাক্ট মার্কেটিং করতে পারেন। এসব প্রোডাক্টেরর জনপ্রিয় কিছু মার্কেট হলো Click bank, Warriorplus।

নিজের পণ্য মার্কেটিং করতে যেসব স্টেপ বলেছি তা এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ক্ষেত্রেও অনুসরণ করতে হবে।

অনেক কোম্পানি তাদের প্রচারের জন্য কন্টেন্ট ক্রিয়েটরসদের বেছে নেন। কারন আপনার দর্শকদের কাছে আপনি প্রিয় তাই আপনি যদি কিছু মার্কেটিং করেন তাহলে আপনার দর্শকের ঐ বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে তাই

ঐসব কোম্পানি কন্টেট ক্রিয়েটরসদের টাকা দিয়ে তাদের প্রচারের কাজ করান। এক্ষেত্রে আপনকে উক্ত কোম্পানির জন্য কোন ভিডিও বানাতে হতে পারে বা তাদের কোন লিংক আপনার ডেসক্রিপশনে রাখতে হতে পারে না হয় তাদের কোন পণ্যের রিভিউ দিতে হতে পারে।

আপনি যে টপিক নিয়ে চ্যানেল খুলবেন ঐ টপিক রিলেটেড একটি Website খুলবেন। Website এও Google adsence এর বিভিন্ন এড দেওয়া যায় যেমন ব্যানার এড, text এড ইত্যাদি।

যদি আপনার website এ এডসেন্স এড থাকে তাহলে প্রতি ভিজিটরের জন্য আয় করতে পারবেন যেমনটা করতে পারতেন ইউটিউব ভিডিওতে। আর আপনি আপনার ইউটিউব ভিডিওর ডেসক্রিপশনে আপনার ওয়েবসাইট লিংক দিতে পারেন।

সেক্ষেত্রে যারা ভিডিও দেখবে তারা ওয়েব সাইটে ও ভিজিট করবে আর আপনার ইউটিউব আয়কে করবে দ্বিগুণ।

এ নিয়ে বিস্তরিত জানতে এই পোস্টটি পড়ুন: ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায়

আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইট এডমিন থেকেও sponsorship পেতে পারেন।

ধৈর্য :

ইউটিউবিং হলো ছোট খাটো একটা ব্যবসার মতো এই ব্যবসায় আপনি যদি ধৈর্য ধারন করতে পারেন তাহলে এটি একদিন না একদিন অনেক বড় ব্যবসায় পরিণত হয়।

কোন ব্যবসা যেমন একদিনে দাড়ায় না তেমনি কোন ইউটিউব চ্যানেল একদিনে গ্রো হয় না। আপনাকে দিনের পর দিন লেগে থাকতে হবে এবং মানুষকে ভালো কিছু দিতে তবেই আপনি মানুষের প্রশংসার পাত্র হবেন। সুতরাং ধৈর্য হারাবেন না।

সঠিক বিষয় নির্বাচন:-

আপনি কোন বিষয়ের উপর ভিডিও বানাবেন সেটা আগে ঠিক করুন। বিষয় নির্বাচনের সময় অবশ্যই আপনাকে এমন বিষয় নির্বাচন করতে হবে যেটির অনেক হাই CPC এবং CPM রয়েছে। আর এমন বিষয় নিয়েই কাজ করবেন যেটাই আপনার আগ্রহ আছে।

কারন যদি আপনার আগ্রহ না থাকে জোর করে বেশিদিন করতে পারবেন না। তাই আগে নিজের আগ্রহকে খুজুন। কয়েকটি ভিডিওর বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি যেগুলোতে খুব বেশি CPC,CPM পাওয়া যায়।

অনেকেই আবার প্রশ্ন করেন, ইউটিউবে কী কী বিষয়ে ভিডিও তৈরী করলে ভালো হবে? যাদের এই প্রশ্নটি আছে তারা নিচের বিষয়গুলো দেখতে পারেন।

টেক রিভিউ :-

টেক রিভিউ হলো টেকনোলজিকাল কোন ডিভাইস (যেমন:- মোবাইল, পিসি) রিভিউ করা। এসব চ্যানেল থেকে খুব ভালো আয় করা যায়। এখানে যেমন Adsence এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে ইনকাম ভালো হয় তেমন মার্কেটিং থেকে ভালো ইনকাম হয়। এসব চ্যানেল গুলোই প্রায় ইনকাম হয় Sponsorship থেকে।

হেল্থ এন্ড বিউটি টিপস :-

মানুষ ইউটিউবে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ভিডিও বেশি দেখে এবং গুগোল Adsence ও ভালো CPC, CPM দেই এসব চ্যানেলে। এখানে বিভিন্ন স্বাস্থ্যা সম্পর্কিত তথ্য দিয়ে ভিডিও বানানো হয় (যেমন :- কোন খাবার খেলে কি হয়। ত্বকে কি ব্যবহার করলে ত্বক ভালো থাকবে) । আপনি হয়ত ভাবছেন আপনি তো জানেন না ।

এই বিষয়ে তাহলে কেমনে বানাবেন ভিডিও। আপনি যে বিষয়ে ভিডিও বানাবেন আপনাকে ঐ বিষয় নিয়ে কয়েকদিন রিসার্চ করে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে তবেই আপনি ভিডিও বানাতে পারেন।

ট্রাভেল ব্লগ :-

যদি আপনি ভ্রমন প্রিয় হয়ে থাকেন তাহলে এটি আপনার জন্য। আপনি চাইলেই কোথাও ঘুরতে গেলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছু নিয়ে একটি ভিডিও বানালেন। হয়ে গেল ট্রাভেল ব্লগ।

App রিভিউ :-

আমরা সবাই মোবাইলে কম বেশি App ব্যবহার করি যদি এসব app ব্যবহার করার পর আমরা একটি রিভিউ দিই ইউটিউব এ তাহলে হয়ে যাবে App রিভিউ চ্যনেল। এক্ষেত্রে Adsence + App sponsorship দুটি থেকেই আয় সম্ভব।

Gaming চ্যানেল :-

বর্তামানে অনলাইন গেইম গুলো অনেক বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করছেন এবং মানুষের মধ্যে। যদি আপনার অনলাইন গেমের প্রতি ভালো পারদর্শিতা থাকে তাহলে লাইভ স্ট্রিমিং বা ছোট খাটো ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতে পারেন।

টিউটোরিয়াল ভিডিও :

যদি আপনার কোন বিষয়ে অনেক ভালো জ্ঞান থাকে তাহলে ঐ জ্ঞান মানুষকে ভিডিওর মাধ্যমে শেয়ার করলে তাই হলো টিউটোরিয়াল ভিডিও। যদি আপনারও এমন ভালো কিছুর সম্পর্কে জ্ঞান থাকে তাহলে বানিয়ে ফেলুন টিউটোরিয়াল ভিডিও এবং আয় করুন।

ইউটিউব থেকে আয় কি হালাল

অনেকের মতে গুগল এডসেন্সের ইউটিউব এডস বা কিছু এডস ক্যাটাগরি ইসলামে হালাল নয় তাই মুসলিম পাঠকরা অবশ্যই এটি সম্পর্কে ভালো-ভাবে ধারণা নিয়ে তবেই এটি ব্যবহার করবেন।

অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে মাথায় রাখত হবে যদি আপনি মানুষকে ভালো কিছু দিতে পারেন তারপরেই আপনি ভালো কিছু আসা করতে পারেন। ভিডিও সবাই বানাই কিন্তু সবার ভিডিওর ভিউস হয় না যারা ভালো কিছু ভিডিও বানায় তাদের ভিডিওই ভালো ভিউস পায়, রেংক হয়, ভাইরাল হয়।

তাই এমন কিছু করুন যেটা সকলের ভালো লাগবে এবং যেটি আপনার প্রশংসার দাবিদার হবে। আর মনে রাখবেন সততা থেকে সুন্দর কিছুই পৃথিবীতে নেই।

আর কেমন লাগল পোস্টটি অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

Leave a Comment