অনলাইনে দ্রুত আয় করার উপায় নিয়ে কয়েকটি অভিনব কৌশল

দ্রুত আয় করতে কে না চায় বলুন!! সবারই একটা আশা থাকে মাসে মাসে টাকা ইনকামের ঝামেলাকে কমিয়ে তাকে আনবে সপ্তাহে। কিন্তু তাই কি আর সম্ভব বলুন? সম্ভব না হলেও আমরা আজ এমন একটি বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করবো যার মাধ্যমে আপনি কাজ শুরুর খুব তাড়াতাড়িই ইনকামের মুখ দেখতে পারবেন। অর্থাৎ  অনলাইনে দ্রুত আয় করার উপায় ।

আর তাই তো এই কথাটি মাথায় রেখেই আপনার জন্য আজকে আমাদের আলোচনা হবে দ্রুত আয় করার কয়েকটি অভিনব কৌশল নিয়ে। বিস্তারিত জেনে নিজের ইনকাম শুরু করতে পাশেই থাকুন।

অনলাইনে দ্রুত আয় করার উপায়
অনলাইনে দ্রুত আয় করার উপায়

দ্রুত আয় করার কয়েকটি অভিনব কৌশল-

দ্রুত আয় করার অভিনব কৌশলের মধ্যে আমরা কিছু সহজ এবং খুব দ্রুত আয় করা যায় এমন জব সম্পর্কে বলব। এমন কয়েকটি জব হলো-

Read More:

অনলাইন সার্ভে-

বর্তমানে ব্যবসা বা নর্মাল চাকরিগুলো বাদ দিয়ে অন্যতম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন কাজগুলো। আপনিও হয়তো অনলাইন কাজগুলোর বিষয়ে কখনো না কখনো শুনে থাকবেন।

হ্যাঁ, যতটা না আপনি শুনেছেন তার চেয়েও বেশি এদের খ্যাতি। তাদের মাঝেই একটি কাজ হলো অনলাইন সার্ভে। অনলাইন সার্ভে মূলত কোনো একটি কোম্পানির দেয়া কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া।

এটি তারা করে থাকে মূলত তাদের প্রোডাক্ট কোয়ালিটি বৃদ্ধির জন্য। আর আপনিও তাদের এই অনলাইন সার্ভেতে অংশ নিয়ে ইনকাম করতে পারেন। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই কাজটি সত্যিই অসাধারণ। আজই তথ্য নিয়ে দেখতে পারেন।

অনলাইন ট্রেডিং-

নর্মাল বাজারে বিনিয়োগ করে তো আপনি আয় করতে পারবেনই। ঠিক তেমনি একটি সুযোগ আপনাকে দিচ্ছে অনলাইন বাজারো। হ্যাঁ, অনলাইনে ট্রেডিং করে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। সর্বনিম্ন ১০ ডলার থেকে শুরু করে হাজার হাজার টাকা এতে ইনভেস্ট করা যায়।

আর আপনার যদি ট্রেডিং এ পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে আপনাকে দেখে কে। হ্যাঁ, ট্রেডিং এর মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি পেয়ে যাতে পারেন এতটা সাফল্য যা আপনি কখনো ভাবতেও পারবেন না। তো দেরি কেন আজকেই ফরেক্স ট্রেডিং কিংবা ইটোর ট্রেডিং সমন্ধে বিস্তারিত ধারণা নিয়ে কাজে লেগে পড়ুন।

Read More:

নিজস্ব ওয়েবসাইট শুরু-

অনলাইনে দ্রুত আয় করার উপায় গুলোর মধ্যে আরও একটি ইনকামের অন্যতম এবং জনপ্রিয় মাধ্যম হলো  ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম। হ্যাঁ। আপনি এখন যে পোস্টটি দেখছেন আমাদের ওয়েবসাইটে এটি একটি ওয়েবপেজ আর আপনিও এমনই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

হ্যাঁ, এখন হয়তো আপনার মনে প্রশ্ন উঠেছে যে কিভাবে ইনকাম করব তাই তো?

সেক্ষেত্রে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই অ্যাডসেন্স সমন্ধে। গুগল এর অ্যাড সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান হলো গুগল অ্যাডসেন্স । এই অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইটে অ্যাড দেখিয়ে আপনিও ইনকাম করতে পারবেন মাসে মাসে লাখ লাখ টাকা।

শুধু যে অ্যাড দেখিয়েই তা কিন্তু নয়। একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগকে আপনি স্পন্সর হিসাবেও দাড় করাতে পারবেন।

ধরুন আপনি একটি ওয়েবসাইট ভালো পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন।  এ পর্যায়ে আপনার ওয়েবসাইটে অ্যাড দেখানোর জন্য বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার সাথে কন্টাক্ট করে স্পন্সর এর কথা বলতে পারে। আর এর মাধ্যমে আপনিও একটি ভালো অ্যামাউন্ট এর টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়াও মাইনিং ওয়েবসাইট করে ফেলতে পারেন। আর এর মাধ্যমে আপনি বিটকয়েন ইনকাম করতে পারবেন।

প্রশ্ন করতে পারেন বিটকয়েন দিয়ে কি করবেন?

সেক্ষেত্রে আপনাকে বলতে চাই যে এক বিটকয়েন সমান  ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। বিশ্বাস করতে পারছেন ১ বিটকয়েন উপার্জন করলেই আপনি হয়ে যেতে পারেন কোটি টাকার মালিক। এর চেয়ে দ্রুত আয় আর কোথা থেকে করতে পারবেন ভাবুন?

Read More:

ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয়-

প্রোফেশন হিসাবে ইউটিউবিং বর্তমানে অন্যতম এবং জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম। স্বাভাবিক চাকরির চেয়েও বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন আপনি ইউটিউবিং পেশা থেকে। হ্যাঁ একটি ইউটিউব থেকেই এত আয়। প্রশ্ন করতে পারেন কিভাবে?

সেক্ষেত্রে আপনাকে আবার অ্যাডসেন্সের সাথেই পরিচয় করিয়ে দিতে চাই। হ্যাঁ। ইউটিউব চ্যানেলেও অ্যাড দেখিয়ে আপনি আয় করতে পারবেন লাখ লাখ টাকা। আর ওয়েবসাইটের তুলনায় আমি মনে করি ইউটিউব ই অধিক লাভজনক। কেননা আপনি ওয়েবসাইটে  হাজার ভিজিটর পেলে একটি ভিডিওতে পাবেন ১০ থেকে ২০ হাজার ভিউয়ারস। আর তাই বেশি মানুষ দেখবে।

আর তার ফলেই আপনি ইউটিউব থেকে একটি বিশাল অ্যামাউন্ট আয় করতে পারবেন।

শুধু যে অ্যাড থেকে আয় তা কিন্তু নয় এখানেও থাকুন স্পন্সরশিপ এর মতো দারুণ এক সুযোগ। আপনি কোনো এক কোম্পানির স্পন্সর হয়েও আয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে স্পন্সর এর জন্য তারা আপনাকে একটি নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট আগেই দিয়ে দিবে।

এছড়াও যে ইনকাম টি আপনি এখানে করতে পারবেন তা হলো প্রোডাক্ট রিভিউ এর মাধ্যমে ইনকাম। হ্যাঁ, কোনো এক কোম্পানির প্রোডাক্ট রিভিউ করে আপনি পেয়ে যেতে পারেন টাকা । আর এর মাধ্যমেই সহজলভ্য ইউটিউব থেকে আপনি এত টাকা আয় করতে পারবেন। আশা করি আপনার যাত্রা ভালো হবে।

Kindle ইবুক লিখুন এবং প্রকাশ করুন-

আপনি যদি একটু বই অনুরাগী হয়ে থাকেন সেই সাথে লিখতেও ভালোবাসেন তাহলে খুব সহজেই আপনি একটি বই পড়ে তার রিভিউ লিখে আয় করতে পারবেন।

হ্যাঁ, এমন  সুযোগই তো দিচ্ছে অ্যামাজনের কিন্ডলে। যেখান থেকে আপনি মাত্র একটি বই এর রিভিউ লিখেই অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আর সবচেয়ে বড় বিষয় কি জানেন অ্যামাজনের এই সেবার মাধ্যমে আপনি যা আয় করবেন তার মাত্র ৩০% ই তাদের দিতে হবে। বাকি ৭০% আপনার ইনকাম।

সত্যি আপনার খ্যাতি বাড়ার পাশাপাশি প্যাসিভ ইনকাম হিসাবে ইবুক লেখা এবং তা প্রকাশ অন্যতম একটি মাধ্যম। সুতরাং দেরি না করে আজই লেগে পড়ুন যদি আপনার বই এর প্রতি থেকে থাকে এক গভীর অনুরাগ। সাফল্য আপনার দোড় গোড়ায় কড়া নাড়বে খুব তাড়াতাড়িই।

এফিলিয়েট মার্কেটিং-

মার্কেটিং শুধু নয় বলতে পারেন ইনকামেরও অন্যতম এবং সেরা একটি মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনিও আয় করতে পারবেন খুব সহজেই । আর এটি যে শুধু সাময়িক ইনকাম তা কিন্তু নয়। আর এর জন্য আপনাকে বাড়তি কিছু করতেও হবে না।

মনে আছে আমরা আমাদের ইনকামের একটি ধাপে বলেছিলাম ওয়েবসাইট থেকে আয়?

হ্যাঁ, আপনি ওই ব্লগে কিংবা ওয়েবসাইটেই নিজের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। তার আগে বলে নিই কিভাবে এটি করতে হয়। অ্যাফিলিয়েট মূলত অন্যের পণ্যের বিস্তারকেই বুঝায়। ধরুন আপনি একটি ব্লগ খুলেছেন এখন সেখানে আপনি মোবাইল নিয়ে রিভিউ করেন। এখন এই রিভিউ এর একেবারে শেষে আপনি কিন্তু সেই পাঠককে পণ্যটি কিনতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে মোবাইলের দোকান দিতে হবে না।

আপনি দারাজ কিংবা বিডিশপ এর এফিলিয়েট পার্টনার হিসাবে জয়েন হয়ে সেখান থেকে প্রোডাক্ট এর লিংক নিয়ে নিজের ওয়েবসাইটে দিতে পারেন।

আর আপনার ওই লিংক থেকে কেউ প্রোডাক্ট কিনলেই আপনি পাবেন ৩% থেকে শুরু করে ২০% পর্যন্ত । আর সবচেয়ে বড় কথা এসবের বাইরেও অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট বিশ্বের সেরা অ্যাফিলিয়েট ব্যবস্থা হিসাবে পরিগণিত সেখান থেকেও আপনি আয় করতে পারবেন। তো দেরি কেন আজই নিজের ঠিকানা খুঁজে নিন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর দুনিয়ায়।

পরিশেষে-

বর্তমান দুনিয়ায় দ্রুত ইনকামের অনেক পন্থাই আপনি খুঁজে পাবেন। তবে আপনার জন্য কোনটি ভালো হবে সেটি কেবল আপনাকেই খুজেই নিতে হবে। অনলাইন এবং ডীজিটাল এই দুনিয়ায় যখন কিছু আর অসম্ভব নেই সেখানে আপনি কেন বসে থাকবেন।

তাই আজই আপনার পছন্দের কোনো কাজকেই নিজের প্যাশন থেকে শুরু করে পেশা বানিয়ে ফেলুন। খাবার খেতে ভালোবাসেন ইউটিউবে ফুড ব্লগিং করুন, লিখতে ভালোবাসেন বুক রিভিউ বা নিজের ওয়েবসাইটে লিখুন। আর এর মাধ্যমে আপনি পেয়ে যেতে পারেন নিজের কাঙ্খিত লক্ষ্য। আশা করি আপনার সাফল্যের শুরুটা হবে আজকেই। ধন্যবাদ।

Leave a Comment