সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? কিভাবে আয় করবেন?

আপনি কী অনলাইনে টাকা ইনকাম করার কথা ভাবছেন? কিংবা নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন আর ব্যবসা কীভাবে প্রচার-প্রসার করবেন, ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না? তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি শুধু আপনারই জন্য। কেননা আমাদের আজকের এই পর্বে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো, হতে পারে এর মাধ্যমেই আপনি আপনার কাংক্ষিত লক্ষ্যে পৌছে যেতে পারেন। হ্যাঁ, আমাদের আজকের আলোচনার মূল বিষয় হলো সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং করে কীভাবে ইনকাম করতে পারেন। তবে চলুন দেরী না করে শুরু করা যাক। আজকের আলোচনার বিষয়বস্তুসমূহ-

  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কী?
  • সোশ্যাল মিডিয়া  মার্কেটিং করতে কী কী লাগে?
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে কীভাবে আয় করবেন?
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? কিভাবে শুরু করবেন।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? কিভাবে শুরু করবেন।

বিস্তারিত আলোচনা – 

সোশ্যাল মিডিয়া   মার্কেটিং কী?

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কী, তা বুঝতে হলে প্রথমে আপনাকে জানতে হবে ডিজিটাল মার্কেটিং আসলে কী?

ডিজিটাল মার্কেটিং কথাটিকে ভাংলে আমরা পাই মোট দুটি শব্দ। ডিজিটাল এবং আরেকটি হলো মার্কেটিং। এখন ডিজিটাল মানে আমরা কী বুঝি?

মূলত ডিজিটাল বলতে টেকনোলজি রিলেটেড এমন সব ইলেকট্রনিক মাধ্যমকে বোঝানো হয়, যার বেশীরভাগই নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের সাথে সম্পর্কিত।

আর মার্কেটিং মানে হলো কোন পণ্য, বিজনেস বা সার্ভিস ব্যক্তিগত উদ্দ্যেশ্য কিংবা কোম্পানির স্বার্থে প্রচার এবং প্রসার ঘটানো। 

তাহলে ডিজিটাল মার্কেটিং দ্বারা কী বোঝানো হতে পারে, আশা করি আন্দাজ করতে পারছেন। সহজ কথায়, কোন ইলেক্টনিক্স মিডিয়াম ব্যবহার করে অর্থাৎ অনলাইন মাধ্যমে আপনার পণ্য বা সেবার প্রচার করানোকেই ডিজিটাল মার্কেটিং বলা হয়।

আর বর্তমানে আমাদের দিনের অধিকাংশ সময়ই আমরা যে কাজে ব্যয় করে থাকি, কিংবা একটু অবসর পেলেই আমরা যেখানে সময় কাটাতে স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করি,তা হলো ফেসবুক,ইন্সটাগ্রাম, টুইটার বা ইউটিউবে ভিডিও দেখা।

আর এই সুজোগটিকেই কাজে লাগিয়ে থাকে অনেক বিজনেস ওনার রা তাদের প্রোডাক্ট এর মার্কেটিং করার জন্য।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মূলত দুইভাবে মার্কেটিং করা হয়।

  • ফ্রি মার্কেটিং।(কোন পাবলিক গ্রুপ বা পাবলিক পেইজে পোস্ট বা কমেন্ট এর মাধ্যমে)
  • পেইড মার্কেটিং। ( টাকা দিয়ে কোন পেইজ বা গ্রুপকে প্রোমট করার মাধ্যমে)।

বর্তমানে যেহেতু দিন দিন সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বাড়ছে, তাই  এর মাধ্যমে মার্কেটিং এর চাহিদাও একই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়া   মার্কেটিং করতে কী কী লাগে?

এবার প্রশ্ন আসতে পারে, সোস্যাল মিডিয়া  মার্কেটিং শুরু করতে হলে আমার কী কী দরকার হবে?

প্রথমেই বলি, যেহেতু বিষয়টি ডিজিটালি সম্পাদন করতে হবে, তাই অবশ্যই আপনার একটি ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াম থাকতে হবে। হতে পারে তা কোন ভালো মানের স্মার্টফোন কিংবা ল্যাপটপ।

তবে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার হলে খুব ভালো হয়। কেননা অনলাইনে কাজ করতে হলে আপনাকে  এমন অনেক টুলস ব্যবহার করতে হবে, যেগুলো সাধারণত মোবাইলের মাধ্যমে করা সুবিধার হবে না। 

আর প্রয়োজন একটি সোশ্যাল সাইট, যার মাধ্যমে আপনি মার্কেটিং করবেন।   এরপর যে বিষয়টি আপনার সবচেয়ে বেশি দরকার  হবে তা হলো সঠিক মানের এবং সঠিক উপায় সমেত ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ। 

আবার অনেকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, প্রাইমারিলি কোন কোন বিষয়ের উপর দক্ষতা থাকলে আমি নিজেকে ডিজিটাল মার্কেটিং/ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং    শুরু করার জন্য উপযুক্ত মনে করতে পারি?

তাদের জন্য বলছি, আপনি যদি সহজেই কোন মানুষকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কোন একটা বিষয় বোঝাতে পারেন, অর্থাৎ যদি আপনার কমিউনিকেশন স্কিল টি খুব ভালো বলে আপনি মনে করেন, তাহলেই নিসন্দেহে বলা যায়, ডিজিটাল মার্কেটিং কে আপনি পেশা হিসাবে নিলে অনেক সামনে এগুতে পারবেন। কারণ মার্কেটিং এর মূল বিষয়ই হলো মানুষের মাঝে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্বন্ধে ভালো একটা ধারণা তৈরি করা।

তবে চিন্তার কিছু নেই, আজকাল অনলাইনে এরকম হাজার হাজার কন্টেন্ট আর টিউটোরিয়াল আছে, যেগুলোর মাধ্যমে সহজেই আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়টি খুব ভালোভাবে শিখে নিতে পারবেন। শুধু দরকার আপনার ধৈর্য এবং শেখার আগ্রহ।

আমাদের এই আর্টিকেলের শেষের দিকে আমরা সেই বিষয়েই কথা বলতে চলেছি। তাই পুরো আর্টিকেলটি মন দিয়ে পড়ুন।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং(এস এম এম) করে কীভাবে আয় করবেন?

আপনি হয়তো মাঝে মাঝেই শুনে থাকবেন, আপনার অমুক বন্ধু ফেসবুক ব্যবহার করে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে । হয়তো আপনারও ইচ্ছা হয়। কিন্তু ইচ্ছা হলেও সময় আর সঠিক গাইডলাইনের অভাবে বিষয়টি সম্পর্কে আপনার আজও বোধহয় অজানা। তাই আর্টিকেলের এ পর্যায়ে আমরা জানবো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আপনি কীভাবে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

অনেকে অনেকভাবে এ থেকে ভালো পরিমাণে একটা আয় করে ফেলেন। তবে বেশিরভাগ মানুষের আয়ের যে মাধ্যম এবং কার্যকরী যে উপায়টি, তা হলো সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। আজ আমরা ধাপে ধাপে শিখবো, কীভাবে আপনিও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মার্কেটিং করে নিজেই নিজের একটা কর্মসংস্থান করে ফেলতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর ক্ষেত্র সমূহঃ

আপনি হয়তো ভাবছেন, সোশ্যাল মিডিয়া বলতে তো আমরা ফেসবুক কেই মূলত চিনে থাকি। তাহলে আর এর আবার বিভিন্ন ক্ষেত্র কোথা থেকে আসবে? আসলে ব্যপারটি তেমন নয়। এস এম এম বা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং যাই বলুন না কেন, এর অনেক গুলো ক্ষেত্র হতে পারে, আর ক্ষেত্র বিশেষে মার্কেটিং এর ধরণও পরিবর্তন হয়ে থাকে। নিচে আমি এমন কিছু এস এম এম এর ক্ষেত্র  নিয়ে আলোচনা করছি-

১। সোশ্যাল নেটওয়ার্কঃ

এটিই হলো আমাদের সবচেয়ে পরিচিত এবং বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম। সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অনলাইন কমিউওনিটিতে বিভিন্নরকম ছবি, ভিডিও, তথ্য বা লেখা বিনিময় করে থাকে। আর এই সুজোগকে কাজে লাগিয়ে মার্কেটাররাও তাদের প্রোডাক্ট নিয়ে বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করেন এবং প্রচারে তাদের পণ্য বা সেবা নিয়ে রিভিউ প্রদান করেন। 

উদাহরণঃ Facebook, Myspace

ফেসবুকে মূলত দুইভাবে মার্কেটিং করা হয়। 

ফ্রি মার্কেটিংঃ

মার্কেটাররা মাঝে মাঝে তাদের নিজস্ব পেইজ বা গ্রুপ খুলে সেখানে তাদের প্রোডাক্ট এর গুনগান করে থাকে। গুণগান বলতে বিষয়টিকে কিন্তু সাধারণ ভাবে নিবেন না। এরও কিন্তু অনেক টেকনিক এবং ট্রিক্স রয়েছে। যার মাধ্যমে কোন প্রোডাক্টের অনাররা সহজেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারেন। এক্ষেত্রে  সৃজনশীলতার বিকল্প নেই।

পেইড মার্কেটিংঃ

অনেকে আবার তাদের পেইজ বা গ্রুপ কে টাকা দিয়ে প্রোমট করে থাকেন, যাতে তাদের সার্ভিসগুলো বেশি মানুষের কাছে পোছায়। একে ফেসবুক পেইড মার্কেটিং বলা হয়।

২। ব্লগিং এবং মাইক্রোব্লগিংঃ

এটিকে আপনি অনেকটা জার্নালের মত ভাবতে পারেন। এটি এমন একটি অয়েবসাইট যেখানে তথ্য সবসময় আপডেট রাখতে হয়। আর টেক্সট মেসেজ প্রদর্শনের মাধ্যমে মার্কেটাররা তাদের পন্যের প্রচার করে থাকেন।

উদাহরণঃ WordPress, Twitter

৩।সোশ্যাল বুকমার্কিংঃ

এই ধরণের সাইট ব্যবহার করার মাধ্যমে ইউজাররা তাদের অয়েবসাইট বা ব্যবসার পোর্টফোলিও সংরক্ষণ এবং বিনিময় করতে পারেন। আবার অনেকে এর মাধ্যমে তাদের বিজনেসের ডকুমেন্ট প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজনেস সাইটে আমন্ত্রণ জানান।

উদাহরণঃ Digg, Reddit

৪। সোশ্যাল রিভিউঃ

এটি মূলত ভ্রমণকারীদের জন্য বানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা তাদের বিভিন্ন হোটেল এবং স্থান সম্বন্ধে রিভিউ প্রদান করতে পারেন। আবার যারা একটূ বেশি বেশি ভ্রমণপ্রিয় তারা ইচ্ছে করলে, এইসব সাইট তাদের ট্রাভেল প্লান হিসাবেও ব্যবহার করতে পারে।

উদাহরণঃ Yelp, Tripadviser

৫।মিডিয়া শেয়ারিংঃ

এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের প্রোডাক্টের বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিও প্রদর্শন এবং শেয়ার করতে পারেন। যার মাধ্যমে অনেক গ্রাহক এবং ক্রেতাকে কোন নির্দিষ্ট পণ্যের প্রতি আগ্রহী করে তোলা যায়।

উদাহরণঃ Flickr, Youtube

৬। ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট(ইউজিসি):

এক্ষেত্রে মূলত ব্যবহারকারীরাই অর্থাত কোন গ্রাহক নিজে থেকে কিছু তথ্য এবং গাইড প্রদর্শন করে থাকেন। এর মাধ্যমেও অনেকে মার্কেটিং এর বিষয়টিকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যান।

উদাহরণঃ Wikitravel, World66

কিছু সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এবং সোশ্যাল বুকমার্কিং সাইটঃ

কাজের সুবিধার্থে এবার আমি আপনাদের সাথে কিছু সোশ্যাল সাইটের নাম তুলে ধরছি, যেগুলোতে আপনি কোন পণ্য বা সার্ভিসের মার্কেটিং করতে পারেন-

  1. www.facebook.com
  2. www.twitter.com
  3. www.plus.google.com
  4. www.linkedin.com
  5. www.myspace.com
  6. www.tagged.com
  7. www.orkut.com
  8. www.blogger.com
  9. www.quepasa.com

10.www.flickr.com

  1. www.picasa.com
  2. www.google.com/buzz
  3. www.wordpress.com
  4. www.badoo.com
  5. www.bedo.com
  6. www.buzznet.com
  7. www.google.com/bookmarks
  8. www.slashdot.org
  9. www.digg.com
  10. www.stumbleupon.com
  11. www.reddit.com
  12. www.squidoo.com
  13. www.delicious.com
  14. www.technorati.com
  15. www.kojaxx.com

Source: www.google.com

 

যেভাবে আয় করবেন

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে তো জানলাম। এবার জানবো কীভাবে আপনি এসব সাইট ব্যবহার করে ভালো একটা ইনকাম করে নিতে পারেন?

সোশ্যাল মিডিয়ার যেহেতু অনেকগুলো ক্ষেত্র তাই এর আয়ের মাধ্যমও অনেক।

১। আউটসোর্সিংঃ 

হ্যা আমি মার্কেটিং নিয়েই কথা বলছি। তবে আপনি অন্যের জন্য মার্কেটিং করে দিবেন। আর বিনিময়ে টাকা কামাবেন। এর জন্যই আউটসোর্সিং কথাটা ব্যবহার করলাম। এক্ষেত্রে আপনি বিভিন্ন মার্কেট প্লেস যেমনাঃ ওডেক্স, ফ্রিল্যান্সার ইত্যাদি সাইটে যেয়ে নিজের একটি আইডি খোলার পর বিভিন্ন বায়ারদের মার্কেটিং এর কাজ করে ডলার আয় করতে পারেন।

বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসঃ

  • www.freelancer.com : এখানে আপনি এস এম এম এর অনেক কাজ পাবেন। তবে প্রথম প্রথম একটু কাজ পেতে অসুবিধা হতে পারে। দুই একটা কাজ জোগাড় করতে পারলেই আপনি এরপর নিয়মিত কাজ পেতে আরম্ভ করবেন। আর এক্ষেত্রে আপনার প্রোফাইলে লুক এবং রেটিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই সেদিক থেকেও একটু সচেতন হবেন।
  •  www.odex.com : এটিও ফ্রিল্যান্সার এর মতই একটি মার্কেটপ্লেস সাইট। তবে এখানে কাজ পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। আর আমার মতে এটিই হতে পারে আপনার আয়ের এক নম্বর প্লাটফর্ম।
  • www.fiverr.com: এক্ষেত্রে আপনি আপনার কাজের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। যেমনঃ ফেসবুক এ ৫০০ লাইকের বিনিময়ে ৫ ডলার দাবি করতে পারেন। এরকম ভাবে আপনি অনেক মার্কেটিং এর কাজও পেতে পারেন, এই সাইট থেকে। এখানে বায়ারদের কাজ করলে পেমেন্টের নিশ্চয়তা শতভাগ। নতুন দের জন্য বিশেষ করে এই সাইট অনেক জনপ্রিয়। কারণ এখানে কাজ করা তেমন কঠিন না। আর খুব ভালো মানের কাজও এখানে পাওয়া যায়।  

২। ফেসবুক পেইজের মাধ্যমেঃ

ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে আয় করতে হলে আপনার পেইজের মিনিমান ৫০০০+ ফলোয়ার থাকতে হবে। তারপর সেই পেইজে আপনি ইচ্ছে করলে নিজের পণ্য কিংবা এফিলিয়েট পণ্য( ইবে, এমাজন, ক্লিকব্যংক, সিজে ইত্যাদি) এড, বিভিন্ন অফার প্রদর্শন, থার্ড পার্টি কোম্পানির ব্যানার প্রদর্শন ইত্যাদি মাধ্যম ব্যবহার করে আয় করতে পারেন। 

৩। টুইটারের মাধ্যমেঃ

এক্ষেত্রেও কিন্তু আপনার একাউন্টে মিনিমাম ৫০০+ ফলোয়ার থাকতে হবে। অনলাইনে এমন অনেক সাইট আছে, যারা শুধুমাত্র তাদের পন্যগুলোর গুণাগুণ পজিটিভ্লি টুইট করার জন্য টাকা পে করে থাকে। তাই এটিও মার্কেটিং এর জন্য অনেক ভালো একটী মাধ্যম হিসাবে ধরা হয়। পণ্য সো করলে পে করে , এমন একটি সাইট হলো স্পন্সরডটুইটস। আসলে বলতে কি, অনলাইনে আপনি ইচ্ছে করলে অনেক মাধ্যম ব্যবহার করে আয় করতে পারেন, শুধু দরকার আপনার জানার আগ্রহ এবং ধৈর্য। 

আপনি হয়তো ভাবছেন, ফেসবুক বা টুইটার এসব জায়গায় লাইক ফলোয়ার বাড়ানোর কি কোন টেকনিক আছে কিনা? তাদের জন্য বলছি, অনলাইনে আপনি এমন অনেক সাইট পাবেন, যারা আপনার পেইজ বা একাউন্ট টাকার বিনিময়ে বুস্ট করে দিবে, আর হিট জেনারেট হলে আপনার ফ্যান,ফলোয়ারও বাড়বে। তবে ন্যাচারালি করাটাই ভালো। কারণ এতে যেমন আপানার অভিজ্ঞতা বাড়বে, সেই সাথে দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে।

ফেসবুক টূইটার ছাড়াও আপনি গুগল প্লাস, লিঙ্কডইন, পিন্টারেস্ট ইত্যাদি ব্যবহার করে খুব সহজেই মার্কেটিং এর মাধ্যমে ভালো মানের ইনকাম করতে পারবেন।

 

৪। সোশ্যাল মিডিয়াতে এফিলিয়েট মার্কেটিং করেঃ

এফিলিয়েট মার্কেটিং কী, তা যদি আপনি না জেনে থাকেন, তাহলে আমাদের এ নিয়ে ইতোপূর্বেই একটি আর্টিকেল রয়েছে, তা দেখে আসতে পারেন। সেখানে আমরা এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি। তবুও আবার বলছি,  অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা মার্কেটিং করে যদি কেউ সেই নির্দিষ্ট সেবা বা পণ্যটি ক্রয় করে থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে আপনিও মুনাফার একটি অংশ কমিশন হিসাবে পাবেন।

এক কথায়, অন্যের জিনিস বিক্রি করে ইনকাম করাই হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। এখন সোশ্যাল মিডিয়া যেমনঃ ফেসবুক ব্যবহার করে আপনি কীভাবে এই এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন?

সেই নিয়েই কথা বলছি। এর জন্য ধরুন, আপনি নিজের কোন গ্রুপ বা পেইজে গিয়ে কোন নির্দিষ্ট একটি পণ্যের রিভিউ দেখালেন, তারপর শেষে আপনার এফিলিয়েট লিঙ্ক দিয়ে দিলেন। এবার কেউ যদি সেই লিঙ্ক এ প্রবেশ করে কিছু কিনে , তাহলে আপনি কমিশন পাবেন। এক্ষত্রে একটি কথা আমি আপনাদের বলতে চাই, আপনার এফিলিয়েট লিঙ্ক প্রকাশ করার সাথে সাথে সবাইকে এটিও জানিয়ে দিন, যে এটি আপনার একটি এফিলিয়েট লিঙ্ক।

তাহলে দেখবেন, পাঠক বা দর্শক আপনার সততার প্রশংসা করবে। বর্তমানে অনেক এফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস রয়েছে, যেখানে নিজের একটি একাউন্ট খুলে আপনিও শুরু করে দিতে পারেন এফিলিয়েট মার্কেটিং। এক্ষেত্রে এমাজন ডট কম খুব জনপ্রিয় একটি ই-কমার্স সাইট, যারা ভালো মানে এফিলিয়েট সেবা দিয়ে থাকে। প্রশ্ন করতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে এফিলিয়েট করে সুবিধা কী?

দেখুন, বর্তমানে মানুষ কোন ব্লগ বা সাধারণ সাইট এর থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতেই থাকতে বেশি পছন্দ করে। আর এ যুগ তো সোশ্যাল মিডিয়ার যুগও বলা হয় মাঝে মাঝে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় এফিলিয়েট মার্কেটীং হতে পারে আপনার ইনকামের একটি অন্যতম ভালো মাধ্যম।

অন্যের পণ্য বা সেবা প্রচার করে আয়-

বিষয়টি অনেকটা এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মতই। তবে এক্ষেত্রে ইনকামের সম্ভাবনা বেশি এবং ঝুকি অনেক কম। কেননা , এতে কেউ সেই পণ্য বা সেবা কিনুক বা না কিনুক আপনি কিন্তু কমিশন পাবেনই। এর জন্য আপনাকে কোন প্রতিষ্ঠান বা ইন্ডিভিজুয়াল কোন ব্যক্তির সাথে চুক্তি করে নিতে হবে।

আর তাদের পণ্য বা সেবা প্রচারে তারা আপনাকে কী পরিমাণ টাকা দিবে, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে হয়। বুঝতেই পারছেন, এর জন্য আপানার ফেসবুক বা টুইটার এর একাউন্ট বা পেইজ এ খুব ভালো পরিমাণের ভিজিটর থাকতে হবে। আর যত বেশি ফ্যান ফলোয়ার হবে, আপনার ইনকামের পরিমাণও বাড়বে।

তবে মনে রাখবেন, আপনার পেইজে বা গ্রুপ এ যেন খুব বেশি এবং ঘন ঘন ইনকাম মূলক পোস্ট না করেন। কারণ এতে অনেকে বিরক্ত বোধ করার ফলে আপনার পেইজ থেকে চলে যেতে পারে। সেদিকেও আশা করি খেয়াল রাখবেন।

 

আমি আপনাকে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি পদ্ধতি শিখিয়ে দিলাম। এগুলো ছাড়াও আপনি, নিজে থেকে বাড়িতে বসে কিছু শৌখিন বা কারুশিল্প মূলক হ্যান্ডমেড তৈরি করে তা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করতে পারেন। এতে দেখবেন, অনেক মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং আপনার কাছে পণ্য কিনতে আগ্রহী হচ্ছে। এর উদাহরণ হিসেবে আমি আমার এক বন্ধুর কথাই বলতে পারি, সে পেইন্টিং খুব ভালো করত। তাই সে বিভিন্ন রকম আর্ট করে তা ফেসবুক এর একটি পেইজ খুলে প্রচার করা শুরু করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দেখা যায়, সে ৪০ হাজারের মত ইনকাম করতে পেরেছিল। তবে এটি কিন্তু আপনার কাজের ধরণের উপর নির্ভর করবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।  

আজ এ পর্যন্তই । কন্টেন্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার দিতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ এতক্ষণ ধৈর্য ধরে পুরো আর্টিকেলটি পড়ার জন্য।

Leave a Comment