ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে কত টাকা আয় করা যায়- জানুন বিস্তারিত!!

ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে কত টাকা আয় করা যায়ঃ  ফ্রিল্যান্সিং শব্দটা আপনি হয়তো কখনো না কখনো শুনে থাকবেন। আর সাথে এও শুনে থাকবেন যে মানুষ ফ্রিল্যন্সিং করে আয়ও করতে পারে। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে কত টাকা আয় করে তারা? হয়তো জানেন না। আর তাই হয়তো চাওয়ার পরও আপনি ফ্রিল্যান্সিং শুরুই করতে পারছেন না।

চিন্তা নেই আজ আমরা আপনার সেই হতাশা এবং প্রশ্নটি দূর করতেই উক্ত পোস্টটির প্রয়োজন বোধ করছি। আজ আমরা তাই আলোচনা করব ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে কত টাকা আয় করা যায় এই বিষয়টি  নিয়ে। বিস্তারিত জানতে পাশেই থাকুন।

ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে কত টাকা আয় করা যায়
ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে কত টাকা আয় করা যায়

ফ্রিল্যান্সিং জগতের এক অভাবনীয় গল্প-

বলছি চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী জয়িতা ব্যানার্জির কথা। জয়ীতা যখন তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোন ঠিক তখনই তার প্রথম সেমিস্টার ফি দিতেই যেন পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে যায়। কারণ সেমিস্টার ফি দেয়ার মতো কোনো টাকাই তার কাছে তখন ছিল না। আর সেমিস্টার ফি দেরিতে দেয়ায় সেবার গুণতে হায় জরিমানার টাকা।

আবার দ্বিতীয়বর্ষে সেমিস্টার ফি এসময় ঠিক তিনিই একই হালে পড়ে যান। কিন্তু এবার যেন উপর ওয়ালা এক রাস্তা বের করে দেন। জয়ীতা ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং করবেন বলে ঠিক করেন। এবং তিনি শুরু করে দেন। এখন মাসে তার আয় কত শুনবেন?

মাসে তার আয় প্রায় ১৬০০ ডলার এরও বেশি। বাংলাদেশী টাকায় যা দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। ঠিক এমনিভাবে নিজের রাস্তা খুঁজে নেন হাজারো তরূন তরুণী। আর অ্যামাউন্ট বা পরিমাণটা কত তা তো নিজ চোখেই দেখতে পাচ্ছেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে কত টাকা আয় করা যায়

আপনিও কি পারবেন মাসে ১৬০০ থেকে ২০০০ ডলার উপার্জন করতে?

এখন মনে হয়তো প্রশ্ন জেগেছে, “আমি পারব কি না?” তাই না? হ্যাঁ, হয়তো তাই ঘোরা ফেরা করছে। উত্তরে আমি বলতে চাই হ্যাঁ, পারবেন। তবে আপনাকেও কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। সেগুলো হলোঃ

কোনো এক বিষয়ে দক্ষতা অর্জন-

ফ্রিল্যান্সিং জগতে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটির প্রয়োজন তা হলো আপনি কোনো একটি বিষয়ে নিজেকে পারদর্শী করে তুলতে হবে। কেননা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে যে হাজার হাজার কাজ রয়েছে তার সবগুলো একসাথেই শেখা সম্ভব নয়। আর আপনি একইসাথে একাধিক কাজে মনোনিবেশ করতে পারবেন না।

এখানে একটি প্রশ্ন নতুনদের কুড়ে কুড়ে খায় তা হলো একটি বিষয়ে পারদর্শী হলেই কি আমি আমার ইনকামটা চালিয়ে যেতে পারবো?

উত্তর হলো হ্যাঁ। আপনার যদি একটি বিষয়য়েই যথেষ্ট জ্ঞান থাকে তাহলে আপনি খুব সহজেই আপনার ইনকাম বাড়াতে পারবেন। অনলাইন মার্কেটপ্লেস এ কখনো কাজের অভাব আপনি পাবেন না।

আরও পড়ুনঃ

ঠিকঠাক মতো অনুশীলন

শেখার পাশাপাশি যে জিনিসটা আপনি আপনাকে করতে হবে তা হলো যা শিখছেন তার অনুশীলন। ইংরেজিতে এই প্রবাদটি তো নিশ্চয় শুনে থাকবেন যে- Practice Makes a man Perfect.

হ্যাঁ, ইংরেজি এই প্রবাদটির একদম বাস্তব প্রয়োগ আপনি দেখবেন আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে। আপনি যত বেশি অনুশীলন করতে পারবেন আপনি তত বেশি স্কিল রপ্ত করতে পারবেন। আর এখানে অনুশীলনের পাশাপাশি আপনাকে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে , যে স্কিল রপ্ত করছেন তার কিছুটা বাস্তব প্রয়োগ।

এখানে বাস্তব প্রয়োগ বলতে আমি বলতে চাচ্ছি, কাজ করা। তবে এই কাজটা আপনাকে আমি ফাইভার কিংবা আপওয়ার্কে গিয়ে করতে বলছি না। বরং এই কাজটা অন্যান্ন মার্কেটপ্লেসগুলোতেও করতে পারেন।

দেশী মার্কেটপ্লেসের মধ্যে পাবেন-

  • কাজ কি
  • স্বাধীন কাজ
  • বিল্যান্সার ইত্যাদি।

এছাড়াও

  • Freelancer
  • People Per Hour
  • guru

অনলাইন মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট

আপনি যখন কিছু দেশী কাজ এবং অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে ফিট মনে করা শুরু করবেন ঠিক তখনই আপনার একটা কাজ করতে হবে আর তা হলো অনলাইন ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেসগুলো সমন্ধে ধারণা নেয়া। কেননা আপনাকে এখন থেকে সেখানেই কাজ করতে হবে। তাই আপনাকে এই বিষয়গুলো জানতে হবে।

আর সবার আগেই আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তা হলো অনালাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে একটি করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে। এতে করে লাভ কি?

লাভ হলো এটাই যে আপনি আপডেট রাখতে পারবেন কোন কাজের চাহিদা কিরূপ। আর তারই উপর ভিত্তি করে নিজের স্কিলের এরিয়াটাকেও একটু সাজিয়ে তুলতে পারবেন। আশা করি অনলাইন মার্কেটপ্লেস সমন্ধে এর মাধ্যমেই আপনার সকল প্রশ্ন দূর হয়ে যাবে।

Read More:

নতুন কিছু রপ্ত করা

অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কিছুদিন থাকার পরই আপনি অনলাইন কাজ সমন্ধে এক বিশাল ধারণা লাভ করে বসবেন। সেই শুরুর দিকে যেমন না জানা না জানা ভাব ছিল। এ পর্যায়ে তা একেবারেই কেটে যাবে। আর আপনিও চাইবেন নিজের ইনকামের পরিসরটাকে একটুখানি বাড়াতে।

কিন্তু কিভাবে বাড়াবেন তাই তো?

সিম্পল উওর। আপনি নতুন কিছু শেখা শুরু করেন। উদাহরণ হিসাবে আপনাকে একটা বিষয় বলতে পারি তা হলো ধরুন আপনি ওয়েব ডেভলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছেন। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে যে কাজই পান বায়ার আপনাকে শুধুই তার ওয়েবসাইটের ডেভল্পমেন্টের কাজ করিয়ে নেয়। আর ডিজাইন এর বাজেটটা পেয়ে যায় অন্য কেউ। একটি বার ভেবে দেখেন যদি আপনি ওয়েব ডিজাইনও শিখতে পারতেন। তাহলে হয়তো আপনার ইনকামটাও আপনার স্কিল এর মতোই ডাবল হয়ে যেত।

আর তাই তো বলছি আপনার মূল স্কিল ঠিক রেখে তার পাশাপাশী নতুন কিছু শেখা শুরু করুন। দেখবেন কিছুদিনের ভিতরেই আপনি ইনকামের নতুন রাস্তা দেখছেন।

ফ্রিল্যান্সিং এ ইনকাম ভালো হবে না যদি…

টাইটেলটি দেখে আপনি হয়তো একটু ঘাবড়ে গেছেন তবে ঘাবড়ানোর কোনো কারণই নেই। কেননা যেসব বিষয় বলব তা খুবই তুচ্ছ আবার অনেক মারাত্মক।

ধরুন আপনি মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলেই কাজ খোঁজা শুরু করলেন অথচ আপনি কোনো স্কিলই আয়ত্ত করতে পারেননি। সেক্ষেত্রে আপনার অবস্থা কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন?
ধরলাম আপনি কাজ খুঁজতে গিয়ে কাজ খুঁজে পেয়েছেনও কিন্তু কাজ করবেন কিভাবে?

কেউ আপনাকে ওয়েব ডেভলপমেন্ট এর একটি প্রোজেক্ট ধরিয়ে দিয়ে বললো কতদিন লাগবে বলুন। আপনার জ্ঞান না থাকায় আপনিও বললেন ২ বছর। অথচ একটা ওয়েবসাইট ডেভলপ করতে এত সময় কখনোই লাগে না। আপনি শুরুতেই খেয়ে গেলেন ধরা। এরকমই আরো অনেক সমস্যার মুখে পড়বেন যদি না নিজেকে শুধরে নেন। প্রথমেই টাকা নয় বরং ছুটুন স্কিল এর পিছনে। দেখবেন টাকা আপনার পিছনে ছুটছে।

দ্বিতীয়ত আপনাকে যে বিষয়টি খুব ভালো ভাবে ধরিয়ে দিতে চাই তা হলো একসাথেই অধিক প্রোজেক্ট হাতে নেয়া।  হ্যাঁ, আপনার মনে হতে পারে যে আপনি বেশি টাকা পাবেন। তবে সেই সাথে এও মনে রাখতে হবে যে আপনি মানুষ একজনই। সুতরাং সেদিক থেকে নিজেকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এতে করে যদি বেশি প্রোজেক্ট নিয়ে ফেলেনও তাহলে বায়ার চোখে আপনার ইম্প্রেশন খারাপ হবে কারণ আপনি ভালো কাজ উপহার দিতে পারবেন না।

আর অপরদিকে কম প্রোজেক্ট নিলে নিজেকে সময় দিতে পারবেন পাশাপাশি ভালো ইনকামও হবে।

Read More

পরিশেষে-

সবার শেষে যে বিষয়গুলো বলতে চাই তা হলো একটি নর্মাল চাকরির তুলনায় আপনি ফ্রিল্যান্সিং এ অজস্র টাকা বেশি ইনকাম করতে পারবেন। আপনাকে এই ইনকাম নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতে হবে না। আপনাকে যা নিয়ে ভাবতে হবে তা হলো আপনি কাজের প্রতি মনোযগ দিচ্ছেন কি না।

আর যখনই নিজের কাজকে ভালো বাসতে পারবেন। তখন দেখবেন আপনার কাছে মাসে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা এসে হাজির। না এটা স্বপ্ন নয় বাস্তব কথা। আর তার নজিরও এখন দেশেই আছে। ফ্রিল্যান্সার নাসিম কিংবা ফ্রিল্যান্সিং কেয়ার এর মতো প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিক্তগুলো। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। ধন্যবাদ।

Leave a Comment