ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার কৌশল- মার্কেটিং এর খুটিনাটি

ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার বাড়ানো যেন এখন আমাদের অন্যরকম একটা শখ। বন্ধু বান্ধবকে ফলো করে ফলো ব্যাক করতে বলাতে এখন আর আমাদের ভুল হয়না। কিন্তু জানেন কি এই ফলোয়ার দিয়ে আপনি আপনার ক্যারিয়ারটাকে গুছিয়ে নিতে পারেন? অর্থাৎ, ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করতে পারবেন।

কি চমকে যাচ্ছেন? হ্যাঁ। ইনস্টাগ্রাম থেকে ইনকাম এর কথাই  বলছি। ইনস্টাগ্রাম থেকেও যে আয় করা যায় কথাটি এখন সবারই জানা, কিন্তু কি কি উপায়ে আয় করা যায় তা সম্পর্কে আমরা বেশি কেউ অবগত নই। যা আপনি ইনস্টাগ্রাম এর অতীতটা দেখলেই বুঝতে পারবেন-

ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার উপায়
ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার উপায়

ইনস্টাগ্রাম এর অতীত-

ঠিক ২০১০ সালের দিকে তাকালেই আপনি বুঝতে পারবেন ইনস্টাগ্রামের অতীতটা কি ছিল। অন্যসব সোশ্যাল মিডিয়া সাইটের মতোই এখানেও সবার সেলফি, ভিডিও এসব দিয়েই ভর্তি ছিল। কিন্তু এখন তাকালে কিন্তু অন্য দৃশ্য দেখতে পারবেন। কেননা গত ১০ বছরে এটির যেমন ব্যবহারীরকারীর সংখ্যা বেড়েছে তেমনি ব্যবহার করার ধরণও পালটে  গেছে।

ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় মানেই মার্কেটিং-

ইনস্টাগ্রামে মানুষ যে এখন শুধু সেলফি নিয়েই পড়ে আছে তা কিন্তু বরং মার্কেটিং এর অন্যতম একটি প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে এই এক দশকে।

সম্প্রতি ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইনস্টাগ্রাম একটি ফটো শেয়ারিং অ্যাপ থেকে মার্কেটিং চ্যানেলে পরিণত হয়েছে।

আর তাই আপনার জন্য এটি হতে পারে অন্যতম একটি মার্কেটিং প্লাটফর্ম যেখানে নিজের পণ্যের বিস্তার করতে আপনাকে লোক খুঁজতে হবে না। হ্যাঁ, বলছি ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এর কথা। ইনস্টাগ্রাম থেকে যদি আয়ই করতে চান তাহলে সবচেয়ে ভালো উপায় থেকেই তো আয় করবেন তাই না? আর সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং যার মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার পকেটে উঠতে পারে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। চলুন জেনে আসা যাক কিভাবে করবেন সেটা-

আমাদের সবার মনেই এখন এক প্রশ্ন জাগতেই পারে যে কিভাবে মার্কেটিং করব। আর কেনই বা করব, তাই না? হ্যাঁ, এ সকল প্রশ্নের উত্তর আজকের পর্বেই পেয়ে যাবেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাথেই থাকুন-

আরও পড়ুনঃ

শুরুতেই আসা যাক ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং কি তা নিয়ে। মার্কেটিং এর একটু ধারণা আশা করি আপনার রয়েছে। আর না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই কারণ আমরা আজ সব জানবো।

 

ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং কি?

তো মূল আলোচনায় আসা যাক। আসলে ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং মূলত এমন এক ধরনের প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নিজের ব্র্যান্ড কিংবা কোম্পানিকে একটি বড় পরিমাণের লোকের সাথে যুক্ত করা যায় এবং বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা করা যায়। এর লাভটা কি?

লাভটা আমি না বললেও হয়তো আপনি বুঝতে পারবেন। তাও বলে রাখছি। এর মাধ্যমে আপনি একটি বড় পরিসরে আপনার ব্যবসার জন্য ক্লায়েন্ট খুঁজতে পারবেন। এর মাধ্যমে আপনার লাভ যেমন বাড়বে তেমনি ব্যবসার পরিসরও বৃদ্ধি পাবে।

ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এর শুরুটা কিভাবে করবেন?

ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করলেও আপনি হয়তো বা জানতেন না যে ইনস্টাগ্রাম ব্যবসার জন্যও ব্যবহার করা যায়। আর তাই হয়তো ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এর বিষয়টিও আপনার কাছে একেবারেই নতুন। তবে চিন্তা নেই। এখন আমরা জানব কিভাবে ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এর শুরুটা করবেন।

চলুন জেনে আসি –

ইনস্টাগ্রামে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য তৈরি করুন-

আচ্ছা আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে আপনি ইনস্টাগ্রাম কেন ব্যবহার করেন। আপনার উত্তরটা কি হবে? অথবা আপনি একবার ভেবে দেখুন কেন ইনস্টাগ্রামে আছেন। উত্তর একটাই পাবেন বিখ্যাত কারোর পোস্ট দেখা কিংবা আইজে টিভিতে ভিডিও দেখা। হ্যাঁ, আমাদের সবারই মূল কারণই এটা।

কিন্তু তাই কি হওয়া উচিত?

মোটেও না। আর তাই আপনি কেন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছেন বা করবেন তার জন্য একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা ভাবুন। যাতে করে আপনি আপনার সময়,শক্তি এবং টাকার সঠিক ব্যবহারটি করতে পারেন।

হ্যাঁ, তা হতে পারে আপনি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছেন আপনার ব্যক্তিগত পোর্টফলিও শেয়ারের জন্য। কিংবা আপনার পণ্য বিক্রির জন্য Anthropologie এর মতো। শুধু যে পোর্টফলিও তা কিন্তু নয়। বরং আপনার জন্য থাকছে আরো অনেক অপশন যেমন জনসচেতনতা সৃষ্টি, মোটিভেশনাল বাণী ইত্যাদি। যার মাধ্যমে ব্র্যান্ড-অ্যাওয়ারনেস বৃদ্ধি করতে পারবেন

মোট কথা এটাই যে আপনার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিতে হবে। আর তা যেন আপনি কেন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছেন তাকেই বোঝায়।

অডিয়েন্স টার্গেট করুন-

উপরোক্ত কাজটি হয়ে গেলে আপনার জন্য যে জিনিসটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে তা হলো অডিয়েন্স বা ক্লায়েন্ট খোঁজা। অর্থাৎ আপনি যে পোস্টগুলো করছেন তা তো এমনি এমনি নয়, তাই না? আপনি কাউকে দেখানোর জন্যই তা করেছেন। আর তা আপনাকে খুঁজতে হবে যে কে আপনার এই পোস্টগুলো দেখবে।

আর এ সময় আপনার যে জিনিসটি মাথায় রাখতে হবে তা হলো সবাইকে কিন্তু অডিয়েন্স হিসেবে গণ্য করা যাবে না। কেননা সবাই একটি জিনিস নিয়েই পরে থাকে না। এটি বয়সের ভিত্তিতেও, আবার লিঙ্গ ভেদেও পরিবর্তন। আর তাই আপনাকে পৌঁছাতে হবে নির্দিষ্ট লোকের কাছে। আর এ পর্যায়ে এসে নিশ্চয় একটা জিনিস বুঝতে পেরেছেন এত লোকের ভিড়ে আপনার কাস্টমার কারা তা খুঁজে নেয়া একটু কঠিন। আর তাই  কিছুটা ধারণা পেতে দেখে আসতে পারনে- টার্গেটেড অডিয়েন্স ।

অডিয়েন্সের পরিসংখ্যানগুলো দেখুন-

আপনি যদি বুঝতে পারেন যে আপনার প্রোডাক্টের নির্দিষ্ট কাস্টমার বা ক্রেতা কারা তাহলে আপনি এবার এই ধাপটি অনুসরণ করুন। একটা তালিকা তৈরি করে নিন। আপনি কোন কাস্টমারের কাছ থেকে কেমন রিসপন্স পাচ্ছেন বা কে কোন জিনিসটার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে সে বিষয়টার খেয়াল রাখুন। এতে করে ক্রেতার চাহিদা এবং নতুন পণ্য সংযোগের ব্যাপারটিও বুঝতে পারবেন।

কম্পিটিটিটরদের পর্যবেক্ষণ করুন-

আপনি যেহেতু ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এ একদম শুরুর পদক্ষেপ নিয়েছেন তাই আপনাকে নতুন হিসাবেই আখ্যায়িত করা যায়। আর এ পর্যায়ে আপনার তাই খুঁজে বের করতে হবে আপনার প্রতিযোগীদের যারা অনেককাল আগে থেকেই আর সাথে যুক্ত আছে।

আর তা করার জন্য তাদের প্রোফাইলে যান তারপর তাদের বিভিন্ন পোস্ট দেখুন এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন এখানে কোন বিষয়টি আপনাকে আকৃষ্ট করছে। আপনি যদি বুঝতে পারেন আপনাকে কোন বিষয়টি আকৃষ্ট করছে তাহলে খুব সহজেই এটাও বের করতে পারবেন মানুষকে কি আকৃষ্ট করে। আর এই বিষয়টা খুঁজে পেলেই আপনার মার্কেটিং স্ট্রাটেজিতে উক্ত পন্থাটি যুক্ত করুন।

পোস্ট আপলোড করার একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার তৈরি করুন-

এ বিষয়টি মূলত এমন যে আপনি একটি সপ্তাহে কতটি পোস্ট দিবেন আপনার সার্ভিস সমন্ধে তা ঠিক করে নিন। এটা হচ্ছে আপনার প্রাথমিক টার্গেট যা আপনাকে পূরণ করতেই হবে। এটা হতে পারে সপ্তাহে ২টি বা ৭টি। তবে ঠিক করে নিন আপনি কয়টি করে করবেন। এতে করে আপনার ভিজিটররাও বুঝতে পারবে আপনি কোনদিন পোস্ট করছেন। এতে করে আপনার সময়ও এবং শ্রম দুটোই বাচবে এবং পাঠক বা ভিজিটরদেরও একটি ধারণা হয়ে যাবে যে তাদের কোনদিন পোস্ট দেখতে আসা উচিত।

আর এসব কিছু মেনে চললেই আপনি একটা ভালো সাফল্যের মুখ দেখতে পারবেন। অনেকেই ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিংকে নিজের প্যাশন হিসাবে নেন। আবার অনেকেই এটাকে দেখতেই পারেন না। এখন আপনি ভাবুন নিজে কোনদিকে যাবেন। যদি বুঝিতে পারেন ইনস্টাগ্রাম এর থেকে ভালো কোনো প্লাটফর্ম আপনি পাবেন না, তাহলে নিঃসন্দেহে সাফল্য আপনার দরজায় কড়া নাড়বে।

কেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বা কোনো ব্যক্তি ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিংকে ভুল বুঝে থাকেন?

অনেক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানই সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজেদের প্রচার প্রচারণা চালানোটাকে মাথাব্যথা হিসাবে দেখেন। এর কারণ কি জানেন? তারা তাদের মূল লক্ষ্যটা ভুলে যায়। তারা ভুলে যায় তারা কেন এখানে মার্কেটিং করবে? কিভাবেই বা করবে এসব। কিন্তু আপনি এটি মোটেও করবেন না। আরেকটি দিক যা সবাই প্রায় ভুলেই যায় যে তাদের ইনস্টাগ্রাম এর বাইরেও একটি মার্কেটিং প্লেস রয়েছে। আর এই ভুলে যাওয়ার কারণেই তারা শুধু ইনস্টাগ্রামকেই নিজেদের কাস্টমার পাওয়ার একমাত্র স্থান হিসাবে চিহ্নিত করে। যা মোটেও করা উচিত নয়। মার্কেটিং এর জন্য আপনি ফেসবুক সহ বাকি সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর সাথেও যুক্ত থাকুন। পাশাপাশি নিজের যে ব্যবসা রয়েছে তাতেও সময় দিন। এমন নয় যে আপনাকে ইনস্টাগ্রামেই সব সেল করতে হবে। ওভার সেল হয়ে গেলে আপনিই সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই চেষ্টা করুন বাকি সব কিছুর পাশাপাশিই এটিকে চালাতে।

মার্কেটিং এর বাইরে ইনস্টাগ্রাম থেকে যেভাবে আয় করবেন-

মার্কেটিং এর বাইরেও ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করা যায় ঠিকই কিন্তু তাও কিছুটা মার্কেটিং এর ভিতরেই পরে। সেটা কি রকম?

আমি আপনাকে এখন কয়েকটা উপায় বলব যার মাধ্যমে ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করতে পারবেন। আর শেষে এটাও বলব কেন এগুলোও মার্কেটিং এর সাথে জড়িত-

আরও পড়ুনঃ

একজন ইনফ্লুয়েন্সার হোন এবং স্পন্সর শুরু করুন-

স্পন্সরশিপ এর জন্য ইনস্টাগ্রাম একটি অন্যতম জায়গা। আর বিভিন্ন মডেল  ও খেলোয়াড়রা এখান্টায় নিজেদের ইনকামের এক অন্য উপায় খুঁজে নিয়েছে। তারা মানুষকে বিভিন্ন প্রডাক্ট কিনতে উৎসাহিত করে। এবং যে প্রোডাক্ট কিনতে উৎসাহিত করলো সেই প্রোডাক্ট এর মালিক এর কাছে থেকে কিছু টাকা পেয়ে থাকে। এখানে কিছু টাকা বলতে অনেক। ইউটিউব স্পন্সরশিপ এর চেয়েও অনেক জনপ্রিয়। আর আপনিও শুরু করে দিতে পারেন যদি মনে করেন। আসলে এক্ষেত্রে আর কিছুই না শুধু আপনার ফ্যান ফলোয়ার একটু বেশি দরকার পরে।

পোস্টার ও ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেল করে আয় করুন-

ইনস্টাগ্রাম হলো সব সুন্দরের স্থান আর তাই তো এখানে সবচেয়ে সুন্দর ছবিটারও অনেক কদর। হ্যাঁ, ইনস্টাগ্রাম থেকে আপনি আপনার বানানো ব্যনার বা ছবির জন্যও অন্যের কাছে থেকে আয় করতে পারেন। আর এখানে এসব ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর কদর অনেক বেশি।
আপনি আপনার ড্রয়িং কিংবা পেইন্টিং বা আপনার তৈরি কোনো অ্যানিমেশন ভিডিও আপনি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে সেল করতে পারেন। আর আয়ের মাধ্যমে হিসাবে এর কদর কিন্তু অনেক।
উপরের দুটি কাজের দিকে আপনি যদি একটু তাকান তাহলেই বুঝতে পারবেন কেন আমি এগুলোকেও মার্কেটিং এর সাথে তুলনা করছিলাম। প্রথমত স্পন্সরশিপ যা একপ্রকার মার্কেটিংই বলা চলে । আবার ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেল যা আপনার তৈরিকৃত প্রোডাক্ট এর মার্কেটিংই কিছুটা। যার মানে এই দাঁড়ায় যাই করুন না কেন, ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করতে হলে মার্কেটিং জানা কিন্তু আবশ্যক।

পরিশেষে-

এখন মানুষের আয়ের অনেক মাধ্যম হয়ে গেছে। তারই সাথে হয়েছে নানা পথ একই মাধ্যমে। তবে সবই যে আপনার জন্য পারফেক্ট হবে এমন কোনো কথা নেই। আর ভালো লাগলে সে জিনিসটাকে আপনাকে পারফেক্ট করে নিতে হবে। আশা করি ইনস্টাগ্রাম থেকে আয়ের শুরুটা আপনার ভালোই হবে। এর পাশাপাশি কোনো টিপস লাগলে তা অবশ্যই নিচের কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Comment